কমিউনিস্ট নেতা শামসুজ্জামান সেলিমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা

অনলাইন ডেস্ক

প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শামসুজ্জামান সেলিমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তার রাজনৈতিক সহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আজ শুক্রবার বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবি কার্যালয় চত্বরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। আগামীকাল শনিবার পাবনার ঈশ্বরদীতে গার্ড অব অনার প্রদান এবং গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হবে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য শামসুজ্জামান সেলিম গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানান রোগ ছাড়াও হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন প্রবীণ এই কমিউনিস্ট নেতা।
গতকাল রাতে তার মরদেহ শমরিতা হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। সেখান থেকে শুক্রবার দুপুরে মোহাম্মদপুরে নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বিকাল সাড়ে ৪টায় পার্টি কার্যালয় চত্ত্বরে নেওয়া হয়।

প্রথমে সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ বিভিন্ন বামপন্থী দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সিপিবির গণসংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শামসুজ্জামান সেলিমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে পার্টির পতাকা দিয়ে তার মরদেহ ঢেকে রেড স্যালুট দেওয়া হয়।

এ সময় সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান ও মুজাহিদল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সহসম্পাদক মিহির ঘোষ এবং ক্ষেতমজুর নেতা আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

পাবনা জেলায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতা শামসুজ্জামান সেলিম মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন। ছাত্রত্ব শেষে শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত হন। পরে তিনি পাকশি পেপার মিল সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে পার্টির প্রয়োজনেই ঢাকায় চলে আসেন এবং শ্রমিক আন্দোলন ছেড়ে ক্ষেতমজুর সমিতির সাথে যুক্ত হন তিনি। পরে ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights