কলাপাড়া লঞ্চঘাট এখন ময়লার ভাগাড়, বাড়ছে জনস্বাস্থ্যঝুঁকি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চঘাট এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ঘাটের বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে খাবারের হোটেলের পচা-বাসি উচ্ছিষ্ট, পলিথিন ও বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য। দীর্ঘদিন এসব অপসারণ না করায় কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে ময়লার স্তূপ। এর পাশে জমে আছে নোংরা পানি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম না থাকায় দিনের পর দিন বর্জ্য জমে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ময়লার সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশা-মাছির বংশবিস্তারের পরিবেশ তৈরি করছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের খবরের মধ্যে লঞ্চঘাটের এমন পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতিদিন লঞ্চে যাতায়াতকারী যাত্রীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ এই এলাকা ব্যবহার করেন।

উপজেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৪৫ জন এবং গত আগস্ট মাসে ৮৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা নুর আলম বলেন, অনেক দিন ধরে লঞ্চঘাটে ময়লা পড়ে থাকতে দেখছেন তিনি। নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে এভাবে ময়লার স্তূপ তৈরি হতো না। ময়লার পাশে পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রবও বেড়েছে।

আরেক বাসিন্দা মো. নূরুর হক বলেন, বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ময়লার সঙ্গে পানি জমে থাকে। দিনের পর দিন পানি জমে থাকলে মশা জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। ডেঙ্গু নিয়ে মানুষ যখন আতঙ্কে, তখন এমন জায়গা দ্রুত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইয়েদ বলেন, এখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ আসা-যাওয়া করেন। ময়লা পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলছেন। নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা দরকার।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সচেতনতা কার্যক্রম চালালেই হবে না, মশার প্রজননস্থলও ধ্বংস করতে হবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন বর্জ্য পড়ে থাকা এবং এর সঙ্গে পানি জমে থাকা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ—দুই দিক থেকেই উদ্বেগের বিষয়। এ ক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকেও নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights