কসবায় টিকা দিয়ে টাকা দাবি, নার্স সাময়িক বরখাস্ত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোর্শেদাকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রবিবার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার বিশারাবাড়ি এলাকার দুই শিশু আবদুল্লাহ (৪) ও খাদিজাকে (৩) বিড়ালে কামড় দিলে তাদের চাচা সাব্বির কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার সময় দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মোর্শেদা আক্তার ২০০ টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সরকারি হাসপাতালে এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই নার্স তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে রোগী ও স্বজনদের কক্ষে আটকে রাখেন। বিষয়টি জানতে পরিবারের অন্য সদস্যরা গেলে তাদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নার্স মোর্শেদা আক্তার রোগীর স্বজনদের উদ্দেশে বলছেন, ‘১০০ টাকা কি আপনার জন্য বেশি হয়ে যায়? আপনি দেন দেন বলছেন, আমি তো ভাবছি আপনি টাকা দেবেন। কিন্তু কেন আপনি টাকা দিচ্ছেন না?’
মোর্শেদাকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে ইনজেকশন দেওয়ার নিময় নাই। আপনি তাহলে নিচ থেকে কেন দিয়ে আনলেন না। আমি যে দিয়ে দিলাম, এটার কোনো মানবতা নাই? আপনি টাকা দিবেন বলে তো দেন নাই।’ একপর্যায়ে তাদেরকে চলে যেতে বলা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুদের চাচা সাব্বির বলেন, ‘ভাতিজা ও ভাতিজিকে বিড়াল কামড় দিলে রাতে হাসপাতালে নিয়ে যাই। শুরুতে টিকা দিতে কিছুটা অনীহা দেখান ওই নার্স। পরে অনুরোধ করার পর টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু টিকা দেওয়ার পরপরই তিনি ২০০ টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে আমাদের আটকে রাখেন। ভাই এসে টাকা দেবে বললেও তিনি রাজি হননি।’
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যেই ওই নার্সকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে বিভাগীয় মামলা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
