কাজ না করেই একই প্রকল্পে দুই দফায় কোটি টাকা
বিশেষ প্রতিনিধি, বগুড়া
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা থোক বরাদ্দ থেকে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছয়টি প্রকল্পের জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই কাজগুলোর মধ্যে আবাসিক ভবন নির্মাণ, উপজেলা কৃষি অফিস পর্যন্ত আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের রাস্তা মেরামত, উপজেলা পরিষদের নতুন ও পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সংস্কার। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ওই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তার পাঁচ মাস পর আবার গত ১০ মে একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত আরেকটি প্রজ্ঞাপনে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পুনরায় একই কাজের জন্য আরও ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুটি প্রজ্ঞাপনের প্রকল্পের তালিকা একই অবকাঠামোকে ঘিরে। ফলে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে একই ধরনের কাজের জন্য পুনরায় বরাদ্দ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ, নতুন প্রশাসনিক ভবনের সাজসজ্জাসহ অধিকাংশ অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজার সময়ে অর্থাৎ ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্বকালে সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের সড়ক মেরামতকরণের প্রকল্প ২০২৫ সালে উল্লেখ্য থাকলেও দুবার বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সড়ক মেরামতের কোনো দৃশ্যমান কাজ দেখা যায়নি। প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রূপসা আবাসিক ভবনে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার কাজের চিহ্ন নেই। ভবনের দেয়ালে শ্যাওলা জমেছে, ভবনটি দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট। একইভাবে যমুনা আবাসিক ভবনের নিচ তলার বারান্দায় গাছপালা জন্মেছে। ছাদ ও দেয়ালে শেওলা ও পরজীবী উদ্ভিদে ভরে গেছে। ভবনের জানালাগুলো নষ্ট হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের প্রবেশ সড়ক এবং নতুন প্রশাসনিক ভবনের সংস্কার কাজের দৃশ্যমান কোনো মেরামত কাজ করা হয়নি। পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সংস্কারের পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ওপর টিনের ছাউনি দিয়ে কক্ষ নির্মাণের কাজ চলতে দেখা গেছে। উপজেলা পরিষদের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণের কাজ চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট দুই প্রজ্ঞাপনের কোনো প্রকল্পেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উল্লেখ নেই। আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, দ্বিতীয়বার নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হলেও মন্ত্রণালয় ভুলক্রমে প্রথম প্রকল্পগুলোর নামেই পুনরায় বরাদ্দ দিয়েছে। পরে সেটি ঠিক করে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে কি না তার কোনো উত্তর নেই। এখন উপজেলার সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণ এবং কৃষি অফিসের সড়ক সংস্কার করা হবে।
