কানাডায় মঞ্চস্থ হলো ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’

কানাডা প্রতিনিধি

কানাডার স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় টরন্টোর ফেয়ারভিউ লাইব্রেরি থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয়েছে বাংলাদেশের বহুল আলোচিত নাটক ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’। জার্মান নাট্যকার ব্রের্টল্ড ব্রেখটের নাটক অবলম্বনে নির্মিত এ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যব্যক্তিত্ব ও অভিনেতা মাহমুদুল ইসলাম সেলিম।

প্রবাসে নাটক মঞ্চায়নের নানা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রাচ্য-প্রতীচ্য-এর এ প্রযোজনা। দর্শকে পরিপূর্ণ মিলনায়তনে উপস্থিত নাট্যপ্রেমীরা নির্মল আনন্দের সঙ্গে নাটকটি উপভোগ করেন।

নাটক শেষে দর্শকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের নব্বই দশকের বিশিষ্ট নাট্যাভিনেত্রী আফরোজা বানু, নাট্যাভিনেত্রী লুৎফর নাহার লতা, নাট্যব্যক্তিত্ব মাহমুদুল ইসলাম সেলিম এবং প্রাচ্য-প্রতীচ্যের সহ-সভাপতি শিবু চৌধুরী।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাহমুদুল ইসলাম সেলিম, হিমাদ্রি রায়, সুমন সাইয়েদ, শাপলা শালুক, ডালিয়া আহমেদ, শিরীন চৌধুরী, পলি পোদ্দার, শারমিন শরীফ, মাহমুদা কাওসার ত্বিষাসহ আরও অনেকে। নাটকটির আলোক পরিকল্পনা ও শব্দ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন সারাহ বিল্লাহ।

নাটকটি সম্পর্কে মাহমুদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ব্রের্টল্ড ব্রেখট ছিলেন একজন প্রগতিশীল নাট্যকার। তাঁর অধিকাংশ নাটকেই মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নের বিষয়টি উঠে এসেছে, যা বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে এখনো বিদ্যমান। এই গভীর সত্যকে তিনি কেবল হাস্যরসের মাধ্যমে নান্দনিকভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপনই করেননি, বরং তাঁদের চিন্তা করতেও উদ্বুদ্ধ করেছেন।’

নাট্যাভিনেত্রী আফরোজা বানু বলেন, ‘নাটকটি দেশীয় আবহে রচিত হলেও কোথাও এটিকে বিদেশি নাটকের রূপান্তর বলে মনে হয় না। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ঢাকার মঞ্চে সমান জনপ্রিয়তায় নাটকটি অভিনীত হয়ে আসছে।’

তিনি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারাই নাটকের প্রাণ। প্রবাসে বাংলা নাটক মঞ্চায়নের ক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা ও উপস্থিতিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।’

বিশিষ্ট নাট্যাভিনেত্রী লুৎফর নাহার লতা বলেন, ‘দূর প্রবাসে নানামুখী ব্যস্ততার মধ্যেও মাহমুদুল ইসলাম সেলিমের নির্দেশনায় বাংলা নাটকের এমন সফল মঞ্চায়ন সত্যিই প্রশংসনীয়। নাটকের কলাকুশলীদের পাশাপাশি দর্শকরাও এ সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’ তিনি প্রবাসে বাংলা নাটকের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রাচ্য-প্রতীচ্যের এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা একটি জটিল নাটক। হাস্যরসের আবহে মঞ্চস্থ হলেও এটি দর্শকের চিন্তার দুয়ার খুলে দেয় এবং সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।’

উল্লেখ্য, ঢাকার মঞ্চে দীর্ঘদিন ধরে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ নাটকটিতে নিয়মিত অভিনয় করেছেন লুৎফর নাহার লতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights