কানাডায় শিমুলের বিলাসী জীবন, অনুসন্ধান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

কানাডায় বিলাসবহুল বাড়ি গড়েছেন নাটোর-২ আসনের সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুল ও তার স্ত্রী শামীমা সুলতানা জান্নাতি। তাদের অর্থ পাচার ও হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদকের জনসংযোগ দপ্তর সূত্র জানায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে টিআর-কাবিখা বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম লুটপাট করেছেন এমপি শিমুল। নিয়োগবাণিজ্য করে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দুর্নীতির টাকায় শিমুল নাটোর ও কানাডার বেগমপাড়ায় স্ত্রীর নামে বিলাসবহুল দুটি বাড়ি করেছেন। আয়কর ফাইল অনুযায়ী এমপি শিমুলের স্ত্রী শামীমা সুলতানা জান্নাতি একজন গৃহবধূ। কিন্তু তার নামে দেশ-বিদেশে রাজপ্রাসাদসম দুটি বাড়ি রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জান্নাতির সম্পদ ছিল ২ কোটি ১৪ লাখ টাকার। পরের বছর তার সম্পদ বৃদ্ধি পায় ১৬ লাখ টাকা। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে তার সম্পদ বেড়েছে ৪ কোটি ২২ লাখ টাকার বেশি। সম্পদ বৃদ্ধির হার ২৮৪ শতাংশ। কানাডার ব্যাংকে তিনটি ব্যাংক হিসাব খুলে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন সাবেক এমপি শিমুল। অভিযোগ রয়েছে তিনি নিজের নামে দুটি এবং কানাডার একজন নাগরিকের নামে হিসাব খুলে শত কোটি টাকা বিভিন্ন সময় পাচার করেছেন। স্ত্রী জান্নাতির নামে কানাডায় বিলাসবহুল বাড়িও কিনেছেন। এর আগে গত ১৫ আগস্ট শফিকুল ইসলাম শিমুল ও তার স্ত্রী শামীমা সুলতানা জান্নাতির ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ। শিমুল ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নাটোর সদর আসনের এমপি হন। ওই বছরই তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন। ২০১৮ ও ২০২৪ সালেও তিনি এমপি হন। অভিযোগ আছে, এমপি হওয়ার পরই তার পরিবারের সবার ভাগ্য ঘুরে যায়। স্ত্রীর নামে নাটোরে জান্নাতি প্যালেস নামে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেন শফিকুল। অভিযোগ আছে কানাডার টরন্টোর নিকটবর্তী স্কারবোরো শহরে আরেকটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে তার। জানা গেছে, কানাডার টরন্টো থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরত্বের নিরিবিলি শহর স্কারবোরো। শহরটির হেয়ারউড সড়কের ৭৩ নম্বর ডুপ্লেক্স বাড়িটির মালিক শামীমা সুলতানা জান্নাতি। বাংলাদেশি পাসপোর্ট অনুযায়ী তার পেশা গৃহবধূ। তার স্বামী শফিকুল ইসলাম শিমুল। ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি ৫ রুম, ৫ বাথ এবং তিনটি পার্কিংসহ ওই বাড়িটির মালিকানা বদল হয়। সঞ্চিত এবং সুধীর মদন নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ১৪ লাখ ৫৬ হাজার কানাডিয়ান ডলারে বাড়িটি কেনেন শামীমা সুলতানা জান্নাতি। ওই দিনই ২ লাখ ৭০ হাজার ডলার ট্যাক্সও পরিশোধ করেন তিনি। সব মিলিয়ে বনেদি বাড়িটি কিনতে তার খরচ হয় প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights