কানাডা-মরক্কো মহারণ শুরু, কে হাসবে শেষ হাসি?
অনলাইন ডেস্ক
শুরু হয়েছে শেষ ষোলোর মহারণ। ফুটবল বিশ্বকাপের এ রাউন্ডের প্রথম রোমাঞ্চকর ম্যাচে মুখোমুখি মরক্কো এবং কানাডা।
নকআউট পর্বের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি কেবল দুই দলের লড়াই নয় বরং আধুনিক ফুটবল বিশ্বে প্রবাসীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের এক অনন্য প্রদর্শনী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান ফুটবল বিশ্বের পরিবর্তিত চিত্র অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের জন্মস্থান এবং জাতীয় দলের জার্সির মধ্যকার সীমানা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নমনীয়।
মরক্কোর বর্তমান স্কোয়াডের দিকে তাকালে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দলটির ২৬ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৮ জনই জন্মসূত্রে ইউরোপের নাগরিক, যাদের একটি বড় অংশ ফ্রান্সের বংশোদ্ভূত। বিশ্ব ফুটবলের এই নতুন ধারাকে আলিঙ্গন করে মরক্কো এখন কেবল একটি আঞ্চলিক শক্তি নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার ধারাবাহিকতায় তারা আবারও প্রমাণ করতে চায় যে, তাদের এই সাফল্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না।
নিজেদের দেশীয় প্রশিক্ষণ একাডেমির পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে বেড়ে ওঠা মরক্কান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে দলটি এখন বিশ্বজুড়ে মুসলিম বিশ্ব এবং আফ্রিকান দেশগুলোর জন্য এক ঐক্যের প্রতীক।
অন্যদিকে, কানাডাও তাদের বহুসাংস্কৃতিক সমাজব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বর্তমান কানাডিয়ান দলটির অন্যতম ভরসা স্টিফেন ইউসতাকিও পর্তুগালের হয়ে যুব পর্যায়ে খেললেও, এখন কানাডার জার্সিতে মাঠ মাতাচ্ছেন। বিশ্বকাপের ৪৪টি দলের অংশগ্রহণের ফলে ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে খেলোয়াড়দের সামনে নিজ শেকড়ের টানে কিংবা আরও ভালো সুযোগের সন্ধানে জাতীয় দল নির্বাচনের সুযোগ অনেক বেড়েছে।
এই ম্যাচটিকে ঘিরে কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে উৎসবের আমেজ। একদিকে যখন ক্যালগারি স্ট্যাম্পিডের মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবে মেতেছে কানাডার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অন্যদিকে তখন হিউস্টনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে দেশজুড়ে বইছে প্রবল উত্তেজনা। কানাডার রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই বিশ্বকাপকে জাতীয় পরিচয় এবং একতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। অটোয়ার লেব্রেটন ফ্ল্যাটস পার্কে সরকারিভাবে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে কানাডার ক্রীড়ামন্ত্রী অ্যাডাম ভ্যান কোভারডেন মন্তব্য করেছেন যে, খেলাধুলা কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একটি জাতি গঠনের শক্তিশালী মাধ্যম।
