কালীগঞ্জে পৌর মার্কেট উদ্বোধন করলেন রাশেদ খাঁন

আরিফ মোল্ল্যা, ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের যানজট নিরসন ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে পৌর মার্কেটের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে শহরের মিনি স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে এ মার্কেটের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনি, সাবেক যুগ্ন আহবায়ক নুরুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ইলিয়াস রহমান মিঠু, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মিলন, বিএনপি নেতা শামসুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা জহির হোসেন মোহনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলী, আবাসিক প্রকৌশলী জয়দীপ সরকার, পৌর প্রকৌশলী কবির হাসান, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেন, সাংবাদিক ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে বক্তব্যে রাশেদ খাঁন বলেন, পৌর মার্কেটের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কালীগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণের পথে এগিয়েছে। তাঁর দাবি, গত ১৭ বছর শহরের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো এবং সেখান থেকে চাঁদাবাজির কারণে যানজট ও বিশৃঙ্খলা ছিল নিত্যদিনের সমস্যা। রাশেদ খাঁন বলেন, ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের একটি স্থায়ী ব্যবসার জায়গা হলে একদিকে তারা স্বাভাবিক পরিবেশে ব্যবসা করতে পারবেন, অন্যদিকে শহরের যানজটও অনেকটা কমে আসবে। একই সঙ্গে পৌরসভা রাজস্ব আয়ের সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কালীগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে ৫ দশমিক ৭০ একর জমি বরাদ্দ নিয়েছে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে পৌর মার্কেট নির্মাণ করা হলে ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষ-সব পক্ষই সুবিধা পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রাশেদ খাঁন বলেন, মার্কেটটি আধুনিক ও পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হলে এটি কালীগঞ্জ শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে শহরের ফুটপাত ও সড়কের ওপর চাপ কমিয়ে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে এটি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন রাশেদ খাঁন। এ সময় দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিদ্যুৎ সমস্যার পেছনে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ব্যবস্থাপনাগত বিভিন্ন সমস্যাও রয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি গ্যাস টার্মিনালে অগ্নিকাÐের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুটি টার্মিনাল প্রকল্প এবং ৩৭টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করা হয়েছিল। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকারকে দীর্ঘ সময়ের ঘাটতি এবং সাম্প্রতিক সমস্যাগুলো একসঙ্গে সামাল দিতে হচ্ছে।

রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের সংকট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের ব্যবস্থাপনার সংকট-সবকিছু মিলিয়ে বর্তমান সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে। সবকিছুর জন্য সাত মাসের সরকারকে দায়ী করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে খুব শিগগিরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights