কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভাইকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ
মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম রাস্তি গ্রামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কিশোরীর ভাইকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে কিশোরীর পরিবার। প্রতিকার চেয়ে বুধবার দুপুরে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম রাস্তি গ্রামের আজিজুল পেদার ছেলে প্রান্ত পেদার (২৫) সাথে প্রতিবেশি এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরবর্তীকে কিশোরীকে ভয়ভীতি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক বার শারীরিক সম্পর্ক করে। এতে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। তখন ওই কিশোরী বিয়ের জন্য প্রান্তকে চাপ দিয়ে প্রান্ত ও তার পরিবারের লোকজন ৩০ নভেম্বর কিশোরীকে মারধর করে। পরে কিশোরীর মা বাদী হয়ে গত শনিবার ধর্ষণ ও মারধরের বিষয় মাদারীপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ দেয়ার পর প্রান্তর পরিবারের বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছিল। এই অভিযোগের বিষয় তদন্ত করার কথা বলে মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুর সদর থানার এসআই কামাল হোসেন বাদী ও কিশোরীকে থানায় ডেকে আনেন।
পরে এসআই কামাল হোসেন বাদীকে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। কিন্তু কিশোরীর পরিবার মিমাংসায় রাজি হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয় প্রান্তের পরিবার। মঙ্গলবার রাতে মাদারীপুর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই সাগরসহ ৪ জন ধর্ষিতার বাড়ি তল্লাশি করা কথা বলে ঘরে ঢুকে। পরে ধর্ষিতা কিশোরী ও তার ভাইকে তল্লাশি করে। এসময় ধর্ষিতা কিশোরীর ভাইয়ের কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে এমন অভিযোগ এনে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরী বলেন, পাশের বাড়ির একটি নির্মাণাধীন বিল্ডিং নিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। এরপর একাধিক বার আমাকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। উল্টো আমার ভাইকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে কিশোরীর মা বলেন, আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। থানায় অভিযোগ দিলে এসআই কামাল হোসেন আমাদের মীমাংসার প্রস্তাব দেন, রাজি না হলে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, মীমাংসা না হলে তোমাদের ক্ষতি হতে পারে। পরে আমার ছেলেকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা এডভোকেট সাইদুর রহমান সাগর বলেন, কিশোরীর পরিবারটি অত্যন্ত গরীব। কিশোরী ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে, সেই ঘটনায় পুলিশ মামলা নেয়নি। উল্টো কিশোরীর ভাইকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। ওই কিশোরী ভাই ইয়াবার ব্যবসা করে বা ইয়াবা সেবন করে এমনটা কখনই শুনিনি।
এ ব্যাপারে মাদারীপুর পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় অবশ্যই মামলা হবে। তবে তদন্তের জন্য মামলা নিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিশোরীর পরিবার এইসব বিষয় একটি অভিযোগ দিয়েছে। ইয়াবার ঘটনাটি তদন্তের জন্য পুলিশের একজন সিনিয়র অফিসার নিযুক্ত করা হয়েছে। কার কাছ থেকে কিভাবে পুলিশ তথ্যে পেয়ে ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিষয়টি তদন্ত হলেই রহস্য উদঘাটন হয়ে যাবে। যদি কোন পুলিশের অপেশাদার আচরণ থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
