কি আছে আমেরিকার দুর্ধর্ষ যুদ্ধজাহাজ আব্রাহাম লিংকনে?

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের মেঘে আচ্ছন্ন। ইরানের অভ্যন্তরে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিপরীতে তেহরানের কঠোর দমনপীড়ন। তার মাঝখানে চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরান চরম বচসা। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের দায়িত্বাধীন এলাকায় সরিয়ে আনা হচ্ছে শক্তিশালী ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। আর এই সামরিক সজ্জার কেন্দ্রে রয়েছে আমেরিকার অন্যতম প্রধান যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আব্রাহাম লিংকন কেবল একা আসছে না, এর সঙ্গে রয়েছে একাধিক অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ এবং অন্তত একটি শক্তিশালী অ্যাটাক সাবমেরিন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এই বিশাল নৌবহর নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাবে। যদিও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই রণতরী মোতায়েনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।

তবে সামরিক বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে ইরানের প্রতি সরাসরি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ অব্যাহত রাখে, তবে ওয়াশিংটন সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন হলো মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নিমিটজ-শ্রেণির বিমানবাহী রণতরী। ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে এই জাহাজের মূল ঘাঁটি অবস্থিত। আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্টের নামে নামকরণ করা এই বিশাল জাহাজটি পরমাণু শক্তিতে চালিত এবং এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ হিসেবে স্বীকৃত। কয়েক দশক ধরে সমুদ্রের বুকে নিরবচ্ছিন্নভাবে কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা রাখে এই রণতরী। মূলত আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে বসে শত্রু পক্ষকে ঘায়েল করা এবং নিজেদের সামরিক শক্তি জাহির করাই এই জাহাজের প্রধান কাজ। নিমিটজ-শ্রেণির এই ক্যারিয়ারগুলো আকাশপথ, সমুদ্রপথ এবং স্থলভাগে যেকোনো লক্ষ্যবস্তুর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে বিমান হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে। ফলে মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত যেকোনো হুমকির মোকাবিলা করতে এটি পেন্টাগনের প্রধান অস্ত্র হিসেবে কাজ করে।

ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রায় এক লাখ টন ওজনের এই বিশালাকার যুদ্ধজাহাজে অন্তত ৫ থেকে ৮ হাজার সামরিক সদস্য অবস্থান করতে পারেন। এটি একা নয় বরং এর সঙ্গে রয়েছে একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন। জাহাজটিতে এফ-৩৫সি স্টিলথ ফাইটার এবং এফ/এ-১৮ সুপার হরনেটের মতো উন্নত প্রযুক্তির প্রায় ৭০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যা দিনরাত যেকোনো সময় ইরানের আকাশসীমা বা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়া এই স্ট্রাইক গ্রুপের অধীনে থাকা জাহাজ ও সাবমেরিনগুলো থেকে অন্তত এক হাজার টমাহক ক্রুজ মিসাইল ছোড়ার সক্ষমতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি শেষ পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তার ফলাফল হবে বিধ্বংসী। মার্কিন রণতরী থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি বিমান হামলা চালানো সম্ভব। যার প্রাথমিক লক্ষ্য হতে পারে ইরানের বিমানঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনা। বিশেষ করে সাবমেরিন থেকে ছোড়া টমাহক মিসাইল দিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে দেশটির সামরিক কমান্ড ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং দেশটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তেল খনিগুলো ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights