কীর্তনখোলায় নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষের পর নিখোঁজ স্পিড বোটের চালকসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। বরিশাল সদর নৌ-থানার এসআই মো. ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার ৬৩ ঘণ্টা পর রবিবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে কীর্তনখোলা নদী থেকে ওই তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

যাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন-ভোলা সদরের ভেদুরিয়ার উত্তর চর এলাকার মো. সিদ্দিকের ছেলে স্পিডবোট চালক মো. আলামিন (১৮), ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. শাহবুদ্দিনের ছেলে মো. ইমরান হোসেন ইমন (২৯) ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নোওয়াপাড়া এলাকার আজগর আলীর ছেলে রাসেল আমিন (২৫)।

নিখোঁজ রয়েছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর এলাকার দুলাল দাসের ছেলে সজল দাস (৩০)।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে কীর্তনখোলা নদীর লাহারহাট খালের প্রবেশমুখে জনতার হাট এলাকায় স্পিডবোট ও বাল্কহেডের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পর নদী থেকে স্থানীয়রা ছয়জনকে উদ্ধার করে। এর মধ্যে জালিস মাহমুদ (৫০) নামের স্পিডবোটের এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। এছাড়াও উদ্ধার করা অপর এক যাত্রী ভোলার দৌলতখান থানার কনষ্টেবল মানসুর আহমেদকে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সদর নৌ-থানার এসআই মো. ওমর ফারুক জানান, ররিবার সকাল সাতটার দিকে দুর্ঘটনার স্থানের কাছে কীর্তনখোলা নদীতে প্রথমে একজনের লাশ ভেসে ওঠে। ওই লাশ উদ্ধার করার সময় আরো একটি ভেসে ওঠে। ওই দুটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর পর বেলা সাড়ে ১০টার দিকে আরো একজনের লাশ ভেসে ওঠে। তিনজনের লাশ মর্গে রয়েছে। ময়না তদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাল্কহেড ও চালককে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। এছাড়াও নৌ-পুলিশের এসআই ওমর ফারুক বাদী হয়ে বাল্কহেড চালক ও স্পিডবোট চালককে আসামি করে বরিশাল মহানগর পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত আরো তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। আটক বাল্কহেড চালক শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানার কোরালতলী এলাকার বাসিন্দা খালেক মাঝি ওই মামলার আসামি হিসেবে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights