কুড়িগ্রামে জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
‘পাট শিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে পাট চাষিদের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবিএম কুদরত-ই খুদার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল।

স্বাগত বক্তব্যে আব্দুল আউয়াল বলেন, পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নত মানের পাটবীজ ও সার বিতরণ, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং নিবন্ধিত কৃষকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও কৃষি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তবে কিছু সমস্যার কারণে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও অনেক কৃষকের মধ্যে পাট চাষের আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

তিনি জানান, পাটের আঁশ পচানোর জন্য পর্যাপ্ত জলাশয়ের অভাব এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সমস্যা। সরকার এই সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবিএম কুদরত-ই খুদা বলেন, কৃষি, শিল্প ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য পাটের গুরুত্ব অপরিসীম। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পাট শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই পাটের সোনালী আঁশের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

তিনি আরও বলেন, পাট উৎপাদনের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন। অন্যান্য ফসলের মতো পাট চাষেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে পাটের খোসা ছাড়ানোর উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আঁশ প্রক্রিয়াজাতকরণ সহজ করা সম্ভব, এতে অতিরিক্ত জলাশয়ের ওপর নির্ভরশীলতাও কমে আসবে।

এ সময় তিনি পাটের সঠিক ব্যবহার, উপকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে কৃষক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত বছর রংপুর অঞ্চলে প্রায় ৮ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়। এতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কৃষক সরাসরি পাট চাষের সঙ্গে যুক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। পাট শিল্পের ভবিষ্যৎ এবং পাট চাষিদের জীবন-জীবিকা মূলত বাজারে পাটের চাহিদার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights