কুড়িগ্রামে প্রতারণার মামলায় প্রতারক দম্পতির কারাদন্ড
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ১৪.০১.২০২৬
কুড়িগ্রামে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের
অভিযোগে দায়ের করা প্রতারণার মামলায় আদালত এক দম্পতিকে বিভিন্ন মেয়াদে
কারাদন্ড দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উলিপুর পৌরসভার রামদাস ধনী রাম সরদার পাড়া
এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ ও তাঁর স্ত্রী আফরোজা বেগম সরকারি চাকরিজীবী
হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। এই প্রলোভনে
পড়ে উলিপুর উপজেলার এক স্কুল শিক্ষক আব্দুল মালেক মাস্টারের কাছ থেকে তাঁর আপন
জামাতাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দম্পতি মোট ১৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিন পার হলেও চাকরি না দিয়ে তারা নানা
টালবাহানা চালিয়ে যান। একপর্যায়ে প্রতারিত হয়ে উপায় না পেয়ে স্কুল শিক্ষক
আব্দুল মালেক ৯ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে কুড়িগ্রাম আদালতে হাজির হয়ে দম্পতির
বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিআর ২৯৩/২৩ (উলিপুর) নম্বরে
রুজু হয়।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারিক কার্যক্রম শেষে কুড়িগ্রামের সিনিয়র
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক হাবিবুর রহমান লাইজু মিয়া
১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জনাকীর্ণ আদালতে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে
আফরোজা বেগমকে তিন বছরের কারাদন্ড এবং তাঁর স্বামী আব্দুর রশিদকে এক বছর
ছয় মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে উভয়কে পাঁচ হাজার টাকা করে
অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। রায় ঘোষণার পর দন্ডপ্রাপ্ত দম্পতিকে কারাগারে পাঠানো
হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আফরোজা বেগম উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ
ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কর্মরত
রয়েছেন। তাঁর স্বামী আব্দুর রশিদ ঢাকা ওয়াসায় এমপিও পদে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, এই দম্পতি উলিপুর উপজেলার অন্তত ৫০টি
পরিবারের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে
নিয়েছেন। এ ঘটনায় এর আগেও তাঁদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের হয়েছিল
এবং সেসব মামলায় তারা সাজাও ভোগ করেছেন।
মামলাটি বাদীপক্ষে পরিচালনা করেছেন অ্যাডভোকেট আলী আহমেদ আতিক। রায়ে
সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদী পক্ষ। জেলা আদালত জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণার
ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জনগণকে প্রতারিত হতে না দেওয়ার
চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
