কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, ভাঙন তীব্র
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ সবকটি নদ-নদীর পানি কমলেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ৪দিন থেকে নতুন করে এসব নদ-নদীর পানি বাড়ছিল, আবার তা কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে তিস্তা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। তবে তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজারহাটে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি আবারও ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি ও সেতু পয়েন্টে পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র নদের হাতিয়া, চিলমারী ও নুনখাওয়া পয়েন্টে পানি কমে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে এসব নদ-নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে পানি উঠে প্লাবিত অঞ্চলগুলোতে বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। তলিয়ে গেছে এসব এলাকার নতুন নতুন ফসল।
এদিকে, তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমা ও বাড়ার কারণে নদীতে এখন নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জে আবারও কাচকল এলাকায় প্রায় ৬০ মিটার বাঁধে পুনরায় ভেঙে গিয়ে স্থানীয়রা নদী ভাঙন আতংকে পড়েছে। অপরদিকে, জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙার রামহরি, খিতাবখা ও বুড়িরহাট বাজার, উলিপুরের হাতিয়া, দাগারকুটি, জলাঙরকুটিসহ জেলার অনেক এলাকায় প্রবল স্রোতে নদী ভাঙছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোড অস্থায়ী ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেও মিলছে না স্বস্তি।
সদর উপজেলার মোগলবাসা এলাকার বাসিন্দা কুদরত আলী জানান, আমরা নয়ার চর থেকে নৌকায় এ পাড়ে আসি। মোগলবাসায় নদী ভাঙন ঠেকাতে কাজ করলেও নয়ারহাটে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও স্থাপনা ভাঙছে। আমরা চাই এখানেও বোল্ডার ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করুক।
চিলমারী উপজেলার কাচকল এলাকার বাসিন্দা জলিল মিয়া জানান, এই কয়দিনে বাধের রাস্তায় তিন ভাঙা দিল। ওয়াপদা জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তা কাজে আসছে না। তলে তলে খায়া যায়া ফির ভাঙতাছে। এখন বাড়িগুলো তলে গেলে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোডের নিবাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, এখন নদ-নদীর পানি কমা বাড়ার কারণে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।জেলার ৩৮টি স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা চিলমারীতে কাচকল এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও আবারও ভেঙে গেছে। শুকনো মৌসুমে এসব এলাকায় স্থায়ীভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে।
