কুমিল্লায় আলোচিত রতন গ্রুপের আনিক গ্রেফতার
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা নগরীতে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জবরদখল ও মাদক বিক্রিসহ বিভিন্ন কিশোর অপরাধের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ‘রতন গ্রুপের’ বিরুদ্ধে। গ্রুপটির প্রধান ইমরান হোসেন রতনের বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। আর সেকেন্ড ইন কমান্ড আনিকের বিরুদ্ধে হত্যা ও কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে। ইমরান গা-ঢাকা দিলেও শনিবার রাতে আনিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, নগরীর ধর্মসাগর পাড়, ঈদগাহ, ফৌজদারি ও আদালত এলাকায় তাদের আধিপত্য বেশি। ‘রতন গ্রুপ’সহ বর্তমানে কুমিল্লা নগরীতে অন্তত ১৫টি কিশোর গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এসব গ্রুপের টার্গেটে রয়েছে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী, টোকাই ও দিনমজুর শ্রেণির কিশোররা।
পুলিশ সূত্র জানায়, রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন রতনের বয়স ২৪ বছর। তিনি কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকার মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশেমের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে ‘রতন গ্রুপ’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তিনি। গ্রুপটিতে ছাত্র, টোকাই ও দিনমজুরসহ অন্তত ৪০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রুপের সদস্যরা নগরীর ধর্মসাগর এলাকা, ঈদগাহ, ফৌজদারি মোড় ও আদালত এলাকায় চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ভাড়ায় জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া গ্রুপটি মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গেও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিমকে হত্যার পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। কুমিল্লা নগরীসহ ১৮টি থানায় একাধিকবার চিরুনি অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় রতন গা-ঢাকা দিয়ে তার কথিত ভাগিনা আনিককে দায়িত্ব দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা গেছে।
রতনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক, কিশোর গ্যাং ও মারামারিসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর আগেও পুলিশ তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে শনিবার রাতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রতন গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আনিসুর রহমান ওরফে আনিককে (১৯) আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধেও হত্যা ও কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। তিনিও কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকার মফিজাবাদ কলোনির বাসিন্দা।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বলেন, জেলাজুড়ে নিয়মিত কিশোর গ্যাংবিরোধী পুলিশের অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে দুই দফায় ৮৭৮ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিল্লা নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ সক্রিয় চার সদস্যও রয়েছেন।
তিনি বলেন, কুমিল্লা মহানগরসহ প্রতিটি থানার যেসব এলাকায় উঠতি বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব এলাকায় এ অভিযান নিয়মিত চলবে।
