কেনিয়ার টারকানা হ্রদে কুমিরের হামলায় মৃত্যু-আতঙ্ক বাড়ছে
অনলাইন ডেস্ক
কেনিয়ার টারকানা হ্রদের তীরে কুমিরের হামলায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনা বাড়ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।
গার্ডিয়ানের খবর অনুসারে, উত্তর-পশ্চিম কেনিয়ার টারকানা হ্রদের আশপাশে কুমিরের হামলা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত এক বছরে অন্তত সাতজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (কেডব্লিউএস)।
হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় কুমিরের আবাসস্থল মানুষের বসতির কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে ঝুঁকি অনেক বেড়েছে।
নগ’ইকালে লোইতো নামে এক নারী হ্রদে গোসল করতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণের শিকার হন। কুমির তার পায়ে কামড় বসিয়ে পানির নিচে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার দুই পা কেটে ফেলতে হয়।
লোইতো বলেন, কুমির আক্রমণ করলে মৃত্যু নিশ্চিত। তিনি বেঁচে গিয়েন কিন্তু তিনি এখন পরিবারের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয়দের জীবিকা অনেকটাই এই হ্রদনির্ভর। মাছ ধরা তাদের প্রধান পেশা। কিন্তু ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে মাছ ধরতে গিয়ে তারা আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন।
কেডব্লিউএসের কর্মকর্তা এলিজাহ চেগে জানান, হ্রদের পানি বাড়ায় কুমির নতুন জায়গায় বাসা বাঁধছে ও শিকার করছে। এতে মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষ বাড়ছে।
তিনি বলেন, মানুষকে সচেতন করতে প্রচার চালানো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কুমির স্থানান্তর বা হত্যা করা হচ্ছে। তবুও হামলা থামছে না।
অনেক ক্ষেত্রে হামলার ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্তও হয় না। অধিকাংশ বেঁচে যাওয়া মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যান।
আরেক ভুক্তভোগী নগ’ইস্পান লং’ওলান এক হামলায় তার পা হারান। জীবন বাঁচাতে তিনি কুমিরের চোখে আঙুল ঢুকিয়ে নিজেকে ছাড়ান। পরে তার ক্ষতিগ্রস্ত পা কেটে ফেলতে হয়।
হ্রদের পানি বৃদ্ধির পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতকে দায়ী করছেন গবেষকরা। ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক দশকে হ্রদের আয়তন প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।
এই পরিবর্তনে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, স্কুল ও কৃষিজমি।
স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। কেউ কেউ কুমির হত্যা করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহাবস্থানই একমাত্র উপায়।
তাদের মতে, সংরক্ষণ ও মানুষের নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। না হলে এই সংকট আরও তীব্র হবে।
