কেনিয়ার পাহাড়ি বনে ফিরল বিরল মাউন্টেন বনগো

অনলাইন ডেস্ক
কেনিয়ার গহীন উচ্চভূমির নিজস্ব বাসিন্দা ও বিশ্বের অন্যতম বিপন্ন প্রজাতির হরিণ ‘মাউন্টেন বনগো’ আবারও তাদের পৈত্রিক ভিটায় ফিরে এসেছে। গত মঙ্গলবার রাতে চেক প্রজাতন্ত্রের একটি চিড়িয়াখানা থেকে চারটি পুরুষ মাউন্টেন বনগোকে বিশেষ ব্যবস্থায় বিমানে করে কেনিয়ায় আনা হয়। নাইরোবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কেনিয়ার পররাষ্ট্র ও পর্যটন মন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা এই বিরল অতিথিদের স্বাগত জানান। একে একটি ঐতিহাসিক ‘প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে অভিহিত করেছে কেনিয়া বন্যপ্রাণী পরিষেবা (কেডব্লিউএস)।

বিমানবন্দর থেকে হরিণগুলোকে সরাসরি মধ্য কেনিয়ার একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। কেডব্লিউএস-এর মহাপরিচালক এরস্তাস কাঙ্গা এই উদ্যোগকে এক আশার আলো হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, বিশ্বের অন্যতম বিরল এই স্তন্যপায়ী প্রাণীর ভবিষ্যৎ রক্ষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। বর্তমানে বনগোগুলোকে নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকে কেনিয়ায় বন্য পরিবেশে প্রায় ৫০০ মাউন্টেন বনগো থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ১০০-এর নিচে। বিস্ময়কর তথ্য হলো, বর্তমানে প্রাকৃতিকভাবে টিকে থাকা বনগোর চেয়ে বিশ্বের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় এদের সংখ্যা বেশি। এই চার নতুন অতিথির আগমন মাউন্টেন কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেন্সিতে থাকা বর্তমান ১০২টি হরিণের প্রজনন প্রক্রিয়ায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে এবং এদের জিনগত বৈচিত্র্যকে আরও শক্তিশালী করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

মাউন্টেন বনগো দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়; এদের গায়ের রঙ লালচে-বাদামী এবং শরীরে সাদা রঙের সরু উল্লম্ব রেখা থাকে। মাথায় থাকে দীর্ঘ সর্পিল শিং। তবে এদের বন্য পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার পথটি খুব একটা সহজ নয়। এর আগে ২০০৪ সালে এবং গত বছরও ফ্লোরিডা থেকে বেশ কিছু বনগোকে কেনিয়ায় আনা হয়েছিল। তবে টিক-বাহিত রোগসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতায় কিছু প্রাণীর মৃত্যু হলেও অনেকে সফলভাবে বন্য পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে এবং প্রজনন শুরু করেছে।

কেনিয়া সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে ২০৫০ সালের মধ্যে মাউন্টেন বনগোর সংখ্যা ৭০০-তে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তারই অংশ হিসেবে চেক প্রজাতন্ত্র থেকে আনা এই চারটি পুরুষ হরিণকে প্রথমে জলবায়ুর সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে বনে অবমুক্ত করা হবে।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights