কেন পিছিয়ে গেল ইতালি? শান্তি বোর্ডে ঢুকলেই দিতে হবে ১ বিলিয়ন ডলার

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগ আবারও বড় ধাক্কা খেল। বোর্ড অব পিসে যোগ দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে ইতালি। দেশটির সরকার স্পষ্ট করেছে, সংবিধানগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই বিতর্কিত বোর্ডে অংশ নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

শনিবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি, আনসা বার্তা সংস্থাকে বলেন, ইতালির সংবিধান আর বোর্ড অব পিসের সনদের মধ্যে এমন আইনগত বিরোধ রয়েছে, যা অতিক্রম করা সম্ভব নয়। তবে শান্তি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় ইতালি আগ্রহী থাকবে বলেও জানান তিনি।

ইতালির এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্যের কাতারে যুক্ত হলো আরেকটি ইউরোপীয় দেশ। এর আগেও এই তিন দেশ ট্রাম্পের বোর্ডে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল।

তায়ানি জানান, ইতালির সংবিধানের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থায় দেশটি যোগ দিতে পারে না। অথচ বোর্ড অব পিসের সনদে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন চেয়ারম্যান ও চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কাঠামো সমতার শর্ত পূরণ করে না বলেই আপত্তি রোমের।

এর পাশাপাশি জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত বছর যুদ্ধ পরবর্তী গাজার জন্য একটি অন্তর্বর্তী শাসন কাঠামো হিসেবে বোর্ডটির অনুমোদন দেওয়া হলেও পরে সনদ সম্প্রসারণে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজার কোনো উল্লেখ রাখা হয়নি।

আল জাজিরা জানিয়েছে, বোর্ড অব পিস স্থায়ী সদস্যপদের জন্য প্রতিটি দেশের কাছে ১ বিলিয়ন ডলার করে দাবি করেছে। এ কারণে অনেকেই এটিকে জাতিসংঘের পে টু প্লে সংস্করণ বলে সমালোচনা করছেন।

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ডটির প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর ঠিক আগের দিন ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

গত মাসে ট্রাম্প প্রায় ৬০টি দেশকে বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বোর্ডটির ওয়েবসাইটে ২৬টি দেশের নাম রয়েছে। এর মধ্যে গাজা ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারী কাতার, মিসরও আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights