কোচ বদলানো সমাধান নয়, স্পেন থেকে জার্মানিকে শিখতে বললেন অলিভার কান

স্পোর্টস ডেস্ক
চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন চূড়ান্ত মুহূর্তে রূপ নিয়েছে, যেখানে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেনের। তবে দুই দলের ভিন্ন ঘরানার ফুটবল দর্শনের মাঝে টুর্নামেন্টে তাদের আধিপত্যই সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে অভেদ্য রক্ষণ ও নিখুঁত ফুটবলের পরিচয় দিয়েছে, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার আগ্রাসী মনোভাব ও লড়াকু মানসিকতা তাদের বারবার ম্যাচের কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।

দল দুটির এই ফাইনাল যাত্রা জার্মানির মতো পরাশক্তিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, যারা টুর্নামেন্টের রাউন্ড অব ৩২ থেকেই আকস্মিক বিদায় নিয়েছে। জার্মান কিংবদন্তি গোলরক্ষক অলিভার কান মনে করেন, জার্মানিকে যদি তাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হয়, তবে স্পেনের ফুটবল মডেল থেকেই শিক্ষা নিতে হবে।

বিশ্বকাপ বিশ্লেষক হিসেবে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অলিভার কান বলেন, জাতীয় দল কিংবা ক্লাব দল—উভয়ের জন্যই নিজস্ব ফুটবল দর্শন ও খেলোয়াড়ি পরিচয় তৈরি করা এবং সেটিতে অবিচল থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে স্পেনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমরা সবাই ১০ বছর আগে স্পেনের ‘টিকি-টাকা’ শৈলী দেখেছি, যা মাঝেমধ্যে বেশ বিরক্তিকর লাগত কারণ তারা কেবল নিজেদের মধ্যেই পাস খেলত, খেলায় কোনো গতি বা আক্রমণাত্মক লম্বালম্বি পাস (ভার্টিক্যালিটি) ছিল না। তবে বর্তমান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে স্প্যানিশ ফুটবলের মূল বল-পজেশন বা বল নিয়ন্ত্রণে রাখার পুরোনো দর্শন ঠিক রেখেই দলের আক্রমণভাগে আমূল পরিবর্তন এনেছেন। আর এ কারণেই স্পেন এখন ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের মতোই প্রায় নিখুঁত ও বিধ্বংসী ফুটবল খেলছে।

জার্মানির বর্তমান ব্যর্থতা এবং কোচ পরিবর্তন প্রসঙ্গে সাবেক সতীর্থ ফিলিপ লামের মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে অলিভার কান জানান, শুধু কোচ বদলানো বা ইয়ুর্গেন ক্লপকে দায়িত্বে আনাই জার্মানির মূল সমাধান নয়। প্রধান প্রশ্ন হওয়া উচিত আগামী ১০ বছরে জার্মানি কী ধরনের ফুটবল খেলতে চায় এবং কেমন খেলোয়াড় তৈরি করতে চায়। কান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমাদের জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ বা কাই হাভার্টজের মতো প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে, কিন্তু কেবল প্রতিভা থাকলেই চলে না। একটি বড় টুর্নামেন্টে চাপের মুখে দায়িত্ব নেওয়া এবং সঠিক মানসিকতা ধরে রাখাই আসল বিষয়। ট্রাইব্রেকারের মতো বাঁচা-মরার মুহূর্তে কারা দায়িত্ব নিতে পারছে, সেই মানসিক শক্তির জবাব এখন জার্মানিকে খুঁজতে হবে।

একইসঙ্গে আর্জেন্টিনার লড়াকু মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ২০০২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জয়ী এই তারকা। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার খেলার ধরনটি বেশ আলাদা, যার বিরুদ্ধে খেলা যেকোনো দলের জন্যই কঠিন। দলে লিওনেল মেসির মতো একজন জিনিয়াস যেমন আছেন, তেমনি দলটির অন্য খেলোয়াড়েরা ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বসেরা না হলেও তারা দেশের জন্য এবং মেসির জন্য নিজেদের উজাড় করে মাঠে দৌড়ান। এই সম্মিলিত ঐক্য ও পরিবেশই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মঞ্চে নিয়ে এসেছে, যা থেকে জার্মানির অনেক কিছু শেখার আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights