কোনো সামরিক জাহাজ হরমুজ পার হতে পারবে না

অনলাইন ডেস্ক

পারস্য উপসাগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থাপনায় ওমানের সাথে একটি সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান। প্রস্তাবিত এই সমঝোতার অধীনে এই কৌশলগত প্রণালি দিয়ে সামরিক জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ এবং সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি স্থানীয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আলোচনার বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো ধরনের সামরিক জাহাজের যাতায়াত স্থগিত রাখা হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইরানের জলসীমা ব্যবহার করবে। অন্যদিকে প্রণালি অতিক্রম করে বের হয়ে যাওয়ার পথটি আংশিকভাবে ইরান এবং আংশিকভাবে ওমানের ভৌগোলিক জলসীমার ওপর দিয়ে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ঘরিবাবাদি উল্লেখ করেন, এই জলপথ ব্যবস্থাপনাটি আপাতত সাময়িক। আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ওমান ও ইরান যৌথভাবে একটি স্থায়ী সামুদ্রিক চলাচল পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।

ইরান-মার্কিন সংঘাতের জেরে দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য প্রায় অবরুদ্ধ রয়েছে। বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুটটি বন্ধ থাকায় বিশ্ব বাজারে দেখা দিয়েছিল তীব্র সংকট। তবে ইরান ও ওমানের মধ্যকার এই যৌথ সমঝোতা প্রয়াসের তীব্র বিরোধিতা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, ওমান এবং ইরানের এই যৌথ জলপথ ব্যবস্থাপনা কিংবা জাহাজ থেকে সংগৃহীত যেকোনো সুরক্ষা ও পরিবেশগত ফি আদায়ের বিষয়টি মেনে নেবে না ওয়াশিংটন। ওমানের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে উপেক্ষা করতে ওমান যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে দেশটিতে বিমান হামলা চালানো হতে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের সাথে বিদ্যমান প্রায় ছয় মাসের এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং ঐতিহাসিক জয় অর্জনের পথে এগোচ্ছে। চুক্তির বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন তাড়াহুড়ো করছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি মারাত্মকভাবে আহত হলেও তিনি বেঁচে আছেন।

সূত্র: ইউরো নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights