কোরআনে বর্ণিত চার অজিফা

মুফতি আইয়ুব নাদীম
সুখে-দুঃখে, শান্তিতে-অশান্তিতে সর্বাবস্থায় দোয়া ও অজিফা মুমিনের সর্বোত্তম সম্বল। মুমিন যখন সুখে-শান্তিতে থাকে, তখনো আল্লাহকে ভোলে না, যখন দুঃখ-কষ্টে থাকে, তখনো আল্লাহ থেকে নিরাশ হয় না। কারণ সুখ-শান্তি যেমন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, তেমনি দুঃখ-কষ্ট, বালা-মুসিবত আল্লাহর রহমতেই দূর হয়।

যাপিত জীবনে অনেক সময় মানুষ নানা বিপদ-আপদ ও দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হয়।

তাই তা থেকে মুক্তি সম্পর্কিত কোরআনে বর্ণিত চারটি পরীক্ষিত অজিফার কথা তুলে ধরা হলো :

১. মুসিবত : মানুষ যখন নানা ধরনের বালা-মুসিবত ও চিন্তা-পেরেশানির মধ্যে পতিত হবে, তখন এই দোয়া পড়বে—

উচ্চারণ : লা-ইলাহা ইল্লা আনতা, সুবহানাকা, ইন্নি কুনতু মিনাজ জ্বলিমিন।

অর্থ : (হে আল্লাহ!) তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তুমি সব ত্রুটি থেকে পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি অপরাধী।

কারণ পবিত্র কোরআনে এর পরের আয়াতে ইরশাদ হয়েছে—‘তখন আমি তার দোয়া কবুল করলাম এবং তাকে সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম। এভাবেই আমি ঈমানদারদের মুক্তি দিয়ে থাকি।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৮৮)

২. কাজ সম্পাদন : দ্বিন-দুনিয়ার যেকোনো কাজ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পাদনের জন্য এই দোয়া পড়া—

উচ্চারণ : হাসবুনাল্লাহা ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল। অর্থ : আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক।

কারণ বান্দা যখন এই দোয়া পড়ে, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পরিণামে তারা আল্লাহর নিয়ামত ও অনুগ্রহ নিয়ে এভাবে ফিরে এলো যে বিন্দুমাত্র অনিষ্ট তাদের স্পর্শ করেনি এবং তারা আল্লাহ যাতে খুশি হন তার অনুসরণ করেছে‌। বস্তুত আল্লাহ মহা অনুগ্রহের মালিক।’

(সুরা : আলে-ইমরান, আয়াত : ১৭৪)

৩. হিংসুক থেকে বাঁচা : হিংসুটের হিংসা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য মহান আল্লাহর সমীপে এই দোয়া পড়া যায়—

উচ্চারণ : ওয়া উফাববিজু আমরি ইলাল্লাহ।

অর্থ : আমি আমার বিষয় আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করেছি।

কারণ এরপর আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘অতঃপর তারা যেসব নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্র করেছিল, আল্লাহ তাকে (সেই মুমিন ব্যক্তিকে) তা থেকে রক্ষা করলেন, আর ফেরাউনের সম্প্রদায়কে পরিবেষ্টন করল নিকৃষ্টতম শাস্তি।’ (সুরা : মুমিন, আয়াত : ৪৫)

৪. জান্নাত লাভ : দুনিয়ায় এমন কেউ নেই যে জান্নাতে যেতে চায় না। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ জান্নাতে যেতে চায়। জান্নাত পাওয়ার জন্য এই দোয়া অধিক পরিমাণে পড়া—

উচারণ : মা-শা-আল্লাহ, লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ : আল্লাহ যা চান তা-ই হয়। আল্লাহর তাওফিক ছাড়া কারো কোনো ক্ষমতা নেই।

কারণ কোরআনে পরের আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তবে আমার প্রতিপালকের পক্ষে অসম্ভব নয় যে তিনি আমাকে তোমার বাগান অপেক্ষা উত্কৃষ্ট জিনিস দান করবেন।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৪০)

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া কাশেফুল উলূম মাদরাসা, মধুপুর, টাঙ্গাইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights