কোরআন-হাদিসের দৃষ্টিতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা

এম এ মান্নান

সাংবাদিকদের বলা হয় জাতির বিবেক। সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যম সত্য সুন্দর ও কল্যাণের পক্ষে ভূমিকা পালন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখতে পারে। আল কোরআনে সাংবাদিকতা সম্পর্কিত অনেক আয়াত রয়েছে। আল্লাহ মানব জাতির কল্যাণে দুনিয়ায় যেসব নবী-রসুলকে পাঠিয়েছেন তাদের সবাই ছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে মানব জাতির জন্য মহাকল্যাণের বার্তাবাহক। আমাদের এ দুনিয়ায় যারা সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে নিয়েছেন, তাদের জন্য কোরআনে আছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

মহান আল্লাহ সুরা বাকারার ৪২ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন, ‘এবং তোমরা সত্য মিথ্যার সঙ্গে মিশিও না এবং জেনে-বুঝে সত্য গোপন কোরো না।’ রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মিথ্যা সংবাদ প্রচার, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া কবিরা গুনাহ।’ (বুখারি, মুসলিম) মুমিনদের সত্যনিষ্ঠ হওয়ার যে তাগিদ আল কোরআন ও হাদিসে দেওয়া হয়েছে তা মানুষের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অবশ্য-পালনীয় হওয়া উচিত। সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সত্য গোপন করা ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়া যেহেতু ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য অপরাধ সেহেতু সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও এটি অনুসরণীয়। ইসলামের দৃষ্টিতে সত্য প্রকাশই সাংবাদিকতা, সংবাদপত্রসহ সব সংবাদমাধ্যমের জন্য তা অবশ্য-পালনীয় নীতি হওয়া উচিত। আল কোরআন নাজিল হয়েছিল মানব-সমাজকে সত্য অবহিত করার জন্য। হজরত আদম (আ.) থেকে রসুল (সা.) পর্যন্ত সব নবী-রসুলের আবির্ভাব হয়েছে মানুষকে সুপথে পরিচালনার উদ্দেশ্যে। তারা পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন আল্লাহ রব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে সত্যের সংবাদবাহক হিসেবে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও যা অনুসরণীয় নীতিমালা বলে বিবেচিত। এ যুগে যারা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত তাদের সবারই উচিত সংবাদ পরিবেশনে আল্লাহ ও রসুলের নির্দেশনা মেনে চলা। সংবাদমাধ্যমের জন্য এ ঐশী নির্দেশের তাৎপর্য অপরিসীম। সাংবাদিকদের দায়িত্ব সত্য তুলে ধরা। সঠিক খবর ও বিষয় সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা। এ ক্ষেত্রে কোরআনের নির্দেশনা গাইডলাইন হিসেবে বিবেচিত হলে দেশ, জাতি ও সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত হবে। সুরা হুজুরাতের ৬ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো বার্তা আনয়ন করে, তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে, পাছে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে বস এবং তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হয়।’

আল কোরআন সংবাদ পরিবেশনে প্রতারণা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘বল, আমি (মুহাম্মদ) তোমাদের বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার আছে, অদৃশ্য সম্বন্ধেও আমি অবগত নই। তোমাদের এও বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমার প্রতি যে ওহি নাজিল হয় আমি শুধু তা-ই অনুসরণ করি। বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান? তোমরা কি অনুধাবন কর না?’ (সুরা আনয়াম, আয়াত ৫০)
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমেনা খাতুন হাফেজিয়া কোরআন রিসার্চ অ্যান্ড ক্যাডেট ইনস্টিটিউট কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights