ক্যালগেরির বাংলা স্কুলের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

কানাডা প্রতিনিধি

কানাডার ক্যালগেরিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলা স্কুলের উদ্যোগে বাংলাদেশ সেন্টারে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ সেন্টারে অবস্থিত ক্যালগেরি বাংলা স্কুল প্রাঙ্গণে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং শিশুদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়। এরপর শিশুদের পরিবেশনায় গান ও আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয় এবং আয়োজন করা হয় হাতের লেখা প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাউদার্ন আলবার্টা হেরিটেজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মাইকেল এমবাই। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিসিএওসি-এর সেক্রেটারি আসিফ হোসেন, শিক্ষা সম্পাদক ড. দেলোয়ার হোসেন, আইটি সম্পাদক সুলতান তাইপুল ইসলাম, ক্যালগেরি বাংলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসজাদ রনি এবং সহ-প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রায়হান। অভিভাবক ও কমিউনিটির সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

বক্তারা বলেন, মাতৃভাষা দিবস শুধু স্মরণ নয়, এটি ভাষা, পরিচয় ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা। বিসিএওসি এর সেক্রেটারি আসিফ হোসেন বলেন, “কমিউনিটির সম্মিলিত অংশগ্রহণেই এই আয়োজন সম্ভব হয়েছে। আমরা চাই ভবিষ্যতেও আমাদের নতুন প্রজন্মের শিশুদের নেতৃত্বে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করতে।

সাউদার্ন আলবার্টা হেরিটেজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মাইকেল এমবাই বলেন, “ঐতিহ্যবাহী ভাষা শিক্ষা শুধু একটি ভাষা শেখানো নয়, এটি একটি কমিউনিটির ইতিহাস, মূল্যবোধ এবং পরিচয়কে টিকিয়ে রাখার প্রয়াস। শিশুদের মধ্যে মাতৃভাষার প্রতি গর্ব তৈরি করতে এমন আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বিসিএওসি এর শিক্ষা সম্পাদক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শিশুদের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। আজকের শিশুদের হাতে বাংলা তুলে দিতে পারলে আগামী প্রজন্ম কানাডার মাটিতে বাংলার মর্যাদা আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”

ক্যালগেরি বাংলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আসজাদ রনি বলেন, “শিশুদের গান, আবৃত্তি ও হাতের লেখা প্রতিযোগিতা প্রমাণ করে যে ভাষা আনন্দের মাধ্যমেও শেখানো যায়। শিশুদের আগ্রহ ধরে রাখতে স্কুল নিয়মিত এমন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।”

সহ-প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রায়হান বলেন, “আজকের আয়োজন প্রমাণ করে, অভিভাবক, শিক্ষক ও কমিউনিটি একসঙ্গে কাজ করলে শিশুদের বাংলা শেখার পথ আরও সহজ ও আনন্দময় হয়।”

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অভিভাবকেরা বলেন, সন্তানদের মধ্যে বাংলা ভাষা চর্চা এবং দেশীয় সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁদের মতে, শ্রেণিকক্ষের বাইরেও গান, আবৃত্তি, ইতিহাসভিত্তিক গল্প বলা এবং সৃজনশীল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা আরও দৃঢ় হয়।

আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিয়মিত এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights