খানসামায় বন্যার পানি ডুবিয়েছে রোপা আমন ধান কৃষকদের মুখে হতাশা

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি: টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যায় কৃষকদের রক্ত-ঘামে ফলানো রোপা আমন ধান ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় কৃষকদের মুখে এখন চরম হতাশা।

বুধবার দিবাগত রাত এবং শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে সকাল পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট, পুকুর-খালে পানি উপচে পড়েছে। অনেক স্থানে বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। সাধারণ মানুষ ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন।

খানসামার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ধান ক্ষেতসহ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ধান বাঁচাতে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় ভুগছেন।

ছাতিয়ানগড় গ্রামের কৃষক গৌরাঙ্গ বলেন, “আমন ধানের জমিতে যে পরিমাণ পানি ঢুকে আছে, তাতে দ্রুত নিষ্কাশন না হলে ধানের গাছ গজিয়ে উঠবে। এতে আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ব। যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই থই থই পানি। প্রতিটি ব্রিজের মুখ দিয়ে স্রোত নামছে।”

অন্যান্য কৃষকরা জানান, শনিবার সকালে বৃষ্টি থামলেও আকাশে প্রচণ্ড মেঘ জমেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, রাত থেকেই আবারো বৃষ্টি শুরু হতে পারে। কৃষকরা বলেন, “বছরের মধ্যে এত পরিমাণ বৃষ্টি হয়নি। নিচুর জমিগুলো সম্পূর্ণ ডুবে যাবে। রোপা আমনের মারাত্মক ক্ষতি হবে, যা আমাদের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনবে।”

এদিকে, শুধু ধানের ক্ষতিই নয়, টানা বৃষ্টির কারণে পুকুরের মাছ বের হয়ে যাচ্ছে এবং সবজি খেতও ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা কৃষি অফিসার ইয়াসমিন আক্তার বলেন, চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে খানসামা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ সার্বক্ষণিক মাঠে কৃষকের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য পরামর্শ দিয়ে বলেন, ধান গাছ তুলে গোছা করে বেঁধে দিতে হবে। এরপর জমির পানি বের করে দিতে হবে। আবহাওয়া ভালো হলে বিপিএইচ ও পঁচানি ওষুধ স্প্রে করতে হবে। যে সব জমি ডুবেছে এবং পানি ঢুকেছে, সেসব জমি থেকে তিন-চার দিনের মধ্যে পানি বের হলে ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। কিন্তু এর চেয়ে বেশি সময় পার হলে ধান হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights