খামেনি যে কারণে ট্রাম্পের নাগালের বাইরে

অনলাইন ডেস্ক

ওমানের মাস্কাটে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রথম দফার আলোচনা। এই আলোচনার টেবিল এমন এক সময়ে সাজানো হয়েছে যখন একদিকে ওয়াশিংটনের সর্বোচ্চ শর্ত এবং অন্যদিকে তেহরানের সামরিক হামলার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে এই দফায় আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়েই দুই পক্ষ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। ওয়াশিংটন কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নয় বরং তেহরানের মিসাইল কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাবকেও আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। অন্যদিকে ইরান কেবল তাদের পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা নিয়েই কথা বলতে আগ্রহী। এই মৌলিক মতভেদ আলোচনা শুরুর আগেই এর সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যালান আয়ারের মতে, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল আমূল বদলে গেছে। গত বছর ১২ দিনের ইসরায়েলি বোমা হামলার সাথে যুক্ত হয়ে মার্কিন বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছিল। এরপর থেকেই ট্রাম্পের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। বর্তমান আলোচনায় ট্রাম্প তিনটি প্রধান শর্ত দিয়েছেন বলে জানা গেছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা, ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা বন্ধ করা। যদিও তেহরান এগুলোকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে, তবে চরম অর্থনৈতিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে তারা কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ক্ষেত্রে তারা ছাড় দিতে চাইলেও মিসাইল প্রোগ্রাম নিয়ে কোনো আপস করতে রাজি নয়।

আন্তর্জাতিক মহলে একটি প্রশ্ন বর্তমানে জোরালো হয়ে উঠেছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যেভাবে জানুয়ারিতে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ক্ষেত্রে তেমনটি কেন ঘটছে না।

বিশ্লেষক অ্যালান আয়ারের মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেনেজুয়েলার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। মাদুরোকে অপসারণ করা আর খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা এক কথা নয়। কারণ, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো এমনভাবে তৈরি যে একজন নেতা অপসারিত হলে দ্রুততম সময়ে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তেহরান এখন মূলত কোনো বড় সামরিক হামলা এড়াতে এবং ধুঁকতে থাকা অর্থনীতির জন্য কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আশায় টেবিলে বসেছে। কিন্তু ওয়াশিংটন চাইছে পূর্ণ নিশ্চয়তা, আর তেহরান চাইছে তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে। এই দুই বিপরীতমুখী যুক্তির দ্বন্দ্বে ওমান বৈঠকের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার সুতোয় ঝুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights