‘গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে অভ্যুত্থানের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের যাত্রা শুরু হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়, তাহলে জুলাই অভ্যুত্থানের যে লক্ষ্য ও পরিবর্তনের স্বপ্ন ছিল, তার আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু হবে। একই সঙ্গে জুলাই পরবর্তী সময়ে মানুষের মধ্যে যে পরিবর্তনের আশা তৈরি হয়েছে, সেটির প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রাও তখন শুরু হবে।

রবিবার সন্ধ্যায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে রংপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় যোগদানের পূর্বে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, এই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—দুটোর জন্যই সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। রাজনৈতিক দল, ভোটার, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকল প্রধান স্টেকহোল্ডার যখন প্রস্তুত, তখন স্পষ্টভাবেই বলা যায়—দেশ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য প্রস্তুত।

উপদেষ্টা বলেন, গণভোটের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, যার মূল দাবি ছিল পরিবর্তন। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হলেও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও বর্বরতার মুখে ছাত্র-জনতার আন্দোলন এক পর্যায়ে রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। সেই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই পরিবর্তনের স্পষ্ট দাবি উঠে আসে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে কেবল একটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নয়, বরং তিনটি প্রধান এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বড় ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে। এই তিনটি এজেন্ডা হলো সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন। সংস্কার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মাধ্যমে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ৬টি কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই জুলাই সনদ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সকল প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার আলোকে গণভোটের প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে। জুলাই সনদে যে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের সুপারিশ ছিল, সেগুলোকেই গণভোটে প্রশ্ন আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম (এনডিসি), রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী (বিপিএম) এবং রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights