গণমাধ্যমে প্রকাশের পর অবশেষে শুরু হয়েছে বাঁধ মেরামতের কাজ
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদীম আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন নদীতীর রক্ষাবাঁধ ভাঙনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর অবশেষে শুরু হয়েছে বাঁধ মেরামতের কাজ। দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙনের আতঙ্কে থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় জেলা প্রশাসন ও সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।
গত ২২ জুন বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘ভাঙনের হুমকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর আগে ৪ জুন বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও মিরকাদীম আশ্রয়ণ প্রকল্পের নদীভাঙনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরকাদীমের তিলার্দী চর এলাকায় সরকারি খাস জমিতে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭৫টি ঘরে প্রায় চার বছর ধরে অসহায়, দরিদ্র ও ভূমিহীন পরিবার বসবাস করছে। তবে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং অসমাপ্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে পুরো প্রকল্পটি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, বাঁধ নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্তরা পুরো কাজ শেষ না করে চলে যান। কিছু অংশে বাঁধ নির্মাণ করলেও বাকি অংশে শুধু জিও ব্যাগ ফেলে রাখা হয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। প্রতিদিন শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌযান ও মালবাহী ট্রলারের ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের মাটি ধসে পড়ে। পাশাপাশি নদীর অপর পাড়ে ইটভাটার জন্য অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণেও ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
আরেক বাসিন্দা আজমল মিয়া বলেন, অনেকবার আবেদন করেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এখন কাজ শুরু হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। দ্রুত ও স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, দ্রুত ও টেকসইভাবে নদীতীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন হলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক মানুষের বসতভিটা রক্ষা পাবে এবং দীর্ঘদিনের নদীভাঙনের আতঙ্ক থেকে তারা মুক্তি পাবেন। একই সঙ্গে তারা গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরায় বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
