গলছে বরফ, ঝুঁকিতে সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালার নানা অবকাঠামো
অনলাইন ডেস্ক
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালা ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। গলতে শুরু করেছে বহু বছরের জমে থাকা বরফখণ্ড এবং দ্রুত পিছু হটছে হিমবাহ। এর ফলে আল্পসের পার্বত্য অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব ফেলছে সুইজারল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক পার্বত্য কুটিরের ওপর।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্য সুইস আল্পাইন ক্লাব (এসএসি) বেশ কিছু কুটির নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করতে এবং নতুন অবকাঠামো ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে লাখ লাখ ডলার ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে বলে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম সুইস ইনফো।
হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট হুমকির একটি বাস্তব উদাহরণ বার্নিজ ওবারল্যান্ডের অবস্থিত ‘মুথর্ন’ মাউন্টেন হাট। বহু বছর ধরে এই কুটিরটির গায়ে ফাটল দেখা যাচ্ছিল এবং তা দিন দিন চওড়া হচ্ছিল। বরফ গলে যাওয়ায় ধসে পড়ার তীব্র ঝুঁকিতে পড়ে এটি, যার ফলে ২০২১ সালে এটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। সুইস পাবলিক ব্রডকাস্টার আরটিএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুইস আল্পাইন ক্লাবের ওয়াইসেনস্টাইন শাখার সভানেত্রী ফ্যাভিয়েন নোটার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমরা জানতাম এই কুটিরটি হয়তো আরও ১০০ বছর টিকে থাকবে না। কিন্তু এটি যে এত দ্রুত ধসে পড়ার উপক্রম হবে, তা আমাদের সত্যিই আতঙ্কিত করে তুলেছে।
পুরো আল্পস পর্বতমালা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সুইস আল্পাইন ক্লাবের ১৫২টি কুটিরের মধ্যে অন্তত ৬৫টি কুটির এমন এলাকায় অবস্থিত যা গলতে থাকা পারমাফ্রস্টের কারণে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শুধু আবাসন বা কুটিরই নয়, পাহাড়ে যাতায়াতের রুট বা পথগুলোও পাথর ধস, কাদা ধস এবং ভূমির চ্যুতি বা নড়াচড়ার কারণে দিন দিন বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি কতটা অনিশ্চিত সে বিষয়ে বার্ন ক্যানটনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিভাগের প্রধান নিলস হেলেন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কখন কী ধসে পড়বে বা পাহাড়ের কোনো অংশ ভেঙে নিচে পড়বে তা আমরা আগে থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারি না। তবে একটি বিষয় একেবারেই নিশ্চিত, এটি ধসে পড়বেই।
এদিকে পরিবেশের এই দ্রুত পরিবর্তনের ফলে অ্যালেশ হিমবাহ প্রতি বছর চার থেকে ছয় মিটার পর্যন্ত তার পুরুত্ব হারাচ্ছে। বরফ গলে উচ্চতা কমে যাওয়ার কারণে প্রতি দুই বা তিন বছর পর পর এখানকার যাতায়াতের সিঁড়ি বা ট্রেইল আরও বাড়াতে হচ্ছে। আল্পসের পানির সংকট নিয়ে কুটির ব্যবস্থাপক ক্রিস্তোফ সেগার বলেন, যখন আর কোনো বরফ গলা পানি অবশিষ্ট থাকবে না, তখন বর্তমানে যেটুকু পানি পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়েই আগামী মে মাস পর্যন্ত চালিয়ে নিতে হবে।
মুথর্ন কুটিরের সুরক্ষায় চরম ঝুঁকির মুখে এর স্থলাভিষিক্ত নতুন একটি কুটির মূল স্থান থেকে প্রায় আধা মাইলেরও বেশি (৯০০ মিটার) দূরে নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন এই স্থানটি তুলনামূলক অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং তুষারধসের ঝুঁকি থেকেও অপেক্ষাকৃত মুক্ত। নিরাপদ স্থানে নতুন কুটির গড়ে তোলার পর পর্বতমালা সুরক্ষায় ২০২৫ সালের গ্রীষ্মকালে পুরানো কুটিরটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়, যার জন্য খরচ করতে হয়েছে চার লাখ ৮০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ।
সূত্র: আনাদোলু
