গাইবান্ধার সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যা আতঙ্ক

সাইফুল মিলন, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলমান এই বন্যার মৌসুমে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

সোমবার গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১২ সেন্টি মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদের পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার, তিস্তা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসাীমার ৩০ সেন্টিমিটার ও করতোয়া নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৮৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বর্ষা মৌসুমে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি কখনো কমছে, আবার কখনো বাড়ছে। সোমবার দুপুরে পর থেকে সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এতে স্থানীয়দেতর মাঝে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এদিকে, বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকেই গাইবান্ধা ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়া নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী ২৫টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে প্রতি বছরই বদলে যাচ্ছে জেলার নদীর তীরবর্তী এলাকার চিত্র। বিলীন হয়ে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি, সড়কসহ নানা স্থাপনা। নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে জেলার সাত শতাধিক পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এছাড়া নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক পরিবার। ফলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলের একের পর এক গ্রাম। ভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা পরিবারগুলো।

গাইবান্ধা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, ঘাঘট ও করতোয়া নদী ভঙনে তীরবর্তী ৭০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর পুনর্বাসন ও বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৮০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ পাওয়া গেছে।

ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো হচ্ছে-ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি ও কাউয়াবাদা, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কেরানীর চর, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী এবং সদর ও সাঘাটায় উপজেলার কয়েকটি এলাকা।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। নতুন এলাকাগুলোতে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights