গাজায় একদিনে প্রাণ গেল আরও ১১২ ফিলিস্তিনির
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফের ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান ও মানবিক সহায়তার দাবির মুখেও অব্যাহত রয়েছে ইসরায়েলের বর্বর আগ্রাসন। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১২ ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩৮ জন।
গাজার জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থার এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যম বলেছেন, ইসরাইলের এই গণহত্যা বন্ধে এখনই বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে। যেন তারা আর কোনো নারী, শিশু এবং বৃদ্ধকে হত্যা করতে না পারে। তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্রই একটি গণহত্যা নয়। এটি ইসরাইলের উন্মত্ততা। তারা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা নারী ও শিশুদের হত্যার জন্য পাগল। দার আল-আরকাম স্কুলে ইসরাইলি বাহিনী সরাসরি হামলা চালিয়েছে।
উদ্ধারকারী সংস্থার ওই মুখপাত্র আরও বলেন, এখানে যা হচ্ছে সেটি বিশ্ববাসীর জন্য জেগে ওঠার একটি ডাক। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ এবং এই গণহত্যা এখনই বন্ধ হওয়া উচিত। শিশুরা এখানে ঠান্ডা মাথায় হত্যার শিকার হচ্ছে।
গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় ফের নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলা শুরু হয়। এর পর থেকে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আরও ১ হাজার ১৬৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ৭০০-এর বেশি।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। এরপর প্রায় দুই মাস সহিংসতা কিছুটা কম থাকলেও, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে হামাসের সঙ্গে মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ফের বিমান হামলা শুরু করে।
জাতিসংঘ বলছে, এই দীর্ঘদিনের আগ্রাসনে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ভূখণ্ডটির অন্তত ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস বা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। একইসঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলছে।
তথ্য সূত্র – তেহরান টাইমস।
