গাজা থেকে সিরিয়া-লেবানন, ইসরায়েলের ‘নির্লজ্জ হামলার’ নিন্দা কাতারের আমিরের
অনলাইন ডেস্ক
সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘দখলদার সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে কাতারের আমির এসব কথা বলেন।
শেখ তামিম বলেন, ‘ফিলিস্তিন যতক্ষণ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি অন্ধকার জায়গা হয়ে থাকবে, ততক্ষণ ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা যায় না।’
গাজায় সংঘটিত ঘটনাকে ‘শব্দটির প্রতিটি অর্থেই গণহত্যা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সমগ্র মানবতার বিবেকের ওপর লজ্জার দাগ। তাঁর ভাষ্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিপর্যয়ের ব্যাপকতা এবং তা বন্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের মাত্রার মধ্যে বিশাল ব্যবধান দেখে বিস্মিত হবে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান কাতারের আমির।
পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। শেখ তামিম বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর অব্যাহত নিপীড়ন, বর্ণবৈষম্য ও ‘দখলদার সন্ত্রাস’ এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ফিলিস্তিনিদের অধিকার অস্বীকার করার মতো বিষয়গুলো একটি ‘খোলা ক্ষত’-এ পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের ‘আগ্রাসন’ এখন প্রতিবেশী দেশগুলোতেও বিস্তৃত হয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।
সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলার নিন্দা
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে সিরিয়ার বিরুদ্ধেও ইসরায়েলের ‘নির্লজ্জ হামলা’ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শেখ তামিম। তাঁর ভাষ্য, ইসরায়েল কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সিরিয়ার আরও ভূখণ্ড দখল করছে।
তিনি সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানান।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও পুরো ভূখণ্ডের ওপর দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতিও কাতারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন শেখ তামিম। একই সঙ্গে লেবাননে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, আল জাজিরা
