গাদ্দাফি হত্যা ভুল ছিলো, বিশ্বাস করেন ট্রাম্প?

অনলাইন ডেস্ক

ইরানে লিবিয়ার মতো পরিস্থিতি দেখতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। ন্যাটোতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ হুইটেকারের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অস্থিতিশীল করতে চান না। ২০১১ সালে বারাক ওবামার আমলে যেভাবে লিবিয়ার শাসক গাদ্দাফিকে হটিয়ে দেশটিকে চরম বিশৃঙ্খলার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে আগ্রহী নয়।

ম্যাথিউ হুইটেকার বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত পরিবেশ দেখতে চায় এবং দেশটিতে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবি জানাচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিনকনসহ শক্তিশালী নৌবহর মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘বিউটিফুল আর্মাডা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

রাষ্ট্রদূত হুইটেকারের মতে, এই সামরিক উপস্থিতি কেবল শক্তির প্রদর্শন নয় বরং এটি তেহরানের সামনে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর একটি সুযোগ’। তিনি বলেন, শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন যথেষ্ট বিচার-বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়।

এদিকে ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক বোমা তৈরির পরিকল্পনা করছে না। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে দেশটিতে চলা বিক্ষোভ প্রসঙ্গে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদেশি উসকানিতে সৃষ্ট অস্থিরতা তারা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথে বেশ কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও উভয় পক্ষকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, যে কোনো ধরনের জোরালো সামরিক পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলে বিপজ্জনক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।

সূত্র: আরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights