গার্মেন্টে অস্থিরতা কাটছে না

সাভার ও শ্রীপুর প্রতিনিধি

ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে ৮৮টি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে উ™ভূত পরিস্থিতিতে অন্তত আরও ১৩৯টি পোশাক কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এনিয়ে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ২২৭টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্প পুলিশের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব সদস্যসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। গতকাল শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার কোথাও শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। সকাল ১০টার দিকে শিল্প পুলিশ-১ এর পরিচালক সারোয়ার আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-বোনাস দাবি নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শিল্প সুরক্ষায় আশুলিয়ার অন্তত ৮৮টি তৈরি পোশাক কারখানা শ্রমআইন ২০০৬ সালের ১৩ (১) ধারায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধারায় কারখানা বন্ধ ঘোষণা করায় শ্রমিকরা বন্ধ সময়কালীন কোনো বেতন পাবেন না।
বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বাইপাইল থেকে জিরাবো, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ও বিশমাইল জিরাবো সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনন্ত, মেডলার, শারমিন গ্রুপ, ডেকো, এস টুয়েন্টি ওয়ান, মন্ডল নিটওয়্যার লিমিটেড, ম্যাঙ্গো টেক্স, এআর জিন্স, এনভয়, স্টাইলিং গ্রুপ, ইপিক গ্রুপ, ভিনটেক্স, ইয়াগী বাংলাদেশ, ক্রস ওয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, অরোনিমা, ডেবনিয়ার, দ্য রোজ, জেনারেশন নেট, সিনসিন, ডিসান সোয়েটার, হা-মীম গ্রুপের দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়্যার লিমিটেড, সিগমা ফ্যাশন, অ্যাপারেলস গ্যালারি লিমিটেড, রিফাত গার্মেন্টস, এক্সপ্রস ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং, নেক্সট কালাকশন, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকার অকোটেং নর্দান ফ্যাশন, দ্যাটস ইট নিট লিমিটেড, ওয়াইপি, নবী টেস্টাইল এলাকার ডরিন গার্মেন্টস, চক্রবর্তী এলাকার নরবান, কমটেক্স, গ্রামীণ ফেব্রিকস অ্যান্ড ফ্যাশন লিমিটেড এবং সিনহাসহ শ্রম আইন ২০০৬ সালের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী অন্তত ৮৮টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এসব পোশাক কারখানার মূল ফটকে বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শ্রীপুরে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ওষুধ কারখানা বন্ধ ঘোষণা : গাজীপুরের শ্রীপুরে হোয়াট হর্স ফার্মাসিউটিক্যাল নামে একটি ওষুধ কোম্পানির শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে বরমী কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে কর্তৃপক্ষ কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে।

গতকাল দুপুরে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কায়েতপাড়া এলাকায় ওই ওষুধ কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। হোয়াট হর্স ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার শ্রমিক মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, এ ওষুধ কোম্পানিতে এক যুগের বেশি সময় ধরে আমি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছি। শুরুতে যে বেতন ৮ হাজার টাকা পেতাম আজও একই বেতন, বেতন বাড়েনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights