গোল না করেও বিশ্বকাপসেরা রদ্রি

আবু নাঈম তরুণ

লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে গোল্ডেন বল জিতেছেন রদ্রি। বিশ্বকাপজুড়ে দারুণ খেলে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি হিসেবে এই ট্রফি জিতেছেন স্প্যানিশ সেনাপতি। যা স্পেনের বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসেও প্রথম। যদিও এটা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক। মেসিভক্তদের দাবি, এর শ্রেষ্ঠ দাবিদার আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। পুরো আসরে চমক দেখিয়েছেন মেসি। ৮ গোল করার পাশাপাশি করিয়েছেন আরও চারটি। টুর্নামেন্টের শুরুতেই করেন নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের একমাত্র হ্যাটট্রিক। এর আগে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জেতেন মেসি। অন্যদিকে রদ্রি উত্তর আমেরিকা আসরে লা রোজাদের হয়ে ৮ ম্যাচের সবকটি খেলেও কোনো গোলের দেখা পাননি। তবে দলের বড় ভরসা হিসেবে প্রায় পুরো মাঠেই দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির এ মিডফিল্ডার। আসরে ৭৯৯ পাসের ৭৪৭টিই সফলভাবে সম্পন্ন করেন রদ্রি। ৯৩ শতাংশ অ্যাকুয়েরিসি নিয়ে পাসিং ডিস্ট্রিবিউশনে শীর্ষে তিনি। এর মধ্যে ফাইনালে ৯৯ মিনিট খেলে ১১৬ বার বল স্পর্শ করেন রদ্রি। তিনি ১০৬টি পাসের মধ্যে ১০১টি নিখুঁতভাবে শেষ করেন। তার কাছ থেকে একবারের জন্যও বল কেড়ে নেওয়া যায়নি। ৬৯০ পাসের ৬৬৮টি (৯৭ শতাংশ) সম্পন্ন করে দুইয়ে কুবারসি ও তিনে লাপোর্তো ৬৬০-এর মধ্যে ৬১৮টি (৯৪ শতাংশ) পাস সফলভাবে শেষ করেন।

পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের গোল সংখ্যা মাত্র ১৪টি-যা কিলিয়ান এমবাপ্পের একাই করা গোলের চেয়ে কেবল মাত্র ৪টি বেশি। অথচ রক্ষণে তারা এতই নিরেট যে হজম করেছে মাত্র ১টি গোল, যা ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য সর্বনিম্ন। কোনো প্রথাগত ‘নম্বর নাইন’ বা খাঁটি স্ট্রাইকার ছাড়াই বিশ্বজয় করে লাল জার্সিধারীরা। যদি বহু সমর্থক স্পেনের এই ধীরগতির ম্যাচ নিয়ন্ত্রণকে ‘বোরিং’ বা একঘেয়ে আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু বোয়া কনস্ট্রিক্টর সাপের মতোই স্প্যানিশরা ধীরে ধীরে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে দমবন্ধ করে ফেলার নিখুঁত ছক এঁকেছিল। আর সেই কৌশলের মূল কাণ্ডারি ছিলেন রদ্রি। গোল্ডেন বলজয়ী এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার প্রমাণ করেছেন-ম্যাচ জিততে ফ্ল্যাশলাইটের আলো লাগে না, লাগে ম্যাচের লাগাম ধরে রাখার ক্ষমতা। লিওনেল মেসির পর ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, মহাদেশীয় ট্রফি (ইউরো ২০২৪), ব্যালন ডি’অর ও বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল-ফুটবলের সম্ভাব্য সবকিছুই জয় করে ‘ফুটবল কমপ্লিট’ করলেন ৩০ বছর বয়সি রদ্রি। ২০২৪ সালে দলের ইউরো জয়েও বড় ভূমিকা রেখে আসরের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ২০২২-২৩ মৌসুমে যখন উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপা জেতে স্পেন, সেখানেও টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছিলেন রদ্রি। তিনি একা কোনো খেলোয়াড় হিসেবে আলো ছড়ান না, বরং তাকে মনে হয় একটি সম্পূর্ণ দল। শূন্য থেকে হঠাৎ কোনো ম্যাজিক তৈরি করেন না, তিনি মূলত কোচ লুইচ দে লা ফুয়েন্তের ফুটবল কৌশলেন মূল চালিকাশক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights