গোসল করতে নেমে মৃত্যু পাঁচ বোনের
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর শাখা ‘মরা নদী’তে একসঙ্গে ডুবে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চরচাকলা কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। মারা যাওয়া পাঁচ শিশু তিন পরিবারের সন্তান এবং তারা একে অপরের মামাতো, ফুপাতো ও চাচাতো বোন। নিহতরা হলো দেবীনগর ইউনিয়নের চরচাকলা গ্রামের মাসুদের মেয়ে সুমাইয়া (১০) ও তার বোন আরিবা (৮), শরিফুলের মেয়ে শরিফা (১২), নিজামুদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) এবং তার বোন সুরাইয়া (৯)।
জানা গেছে, গতকাল বেলা পৌনে ১টার দিকে কাউকে কিছু না জানিয়ে চরচাকলা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার শাখা ‘মরা নদী’তে
গোসল করতে নামে পাঁচ বোন। কিছুক্ষণ পরই তারা ডুবে যায়। শিশুদের কেউ সাঁতার জানত না। এ সময় স্থানীয় এক নারী শিশুদের পানিতে হাবুডুবু খেতে দেখে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। একপর্যায়ে পানির নিচ থেকে পাঁচ শিশুকেই উদ্ধার করা হয়। তবে ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। নিহত পাঁচ শিশু একই এলাকার বাসিন্দা এবং পরস্পরের আত্মীয় হওয়ায় এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দেবীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসেন বলেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ জানতে পারে পদ্মার শাখা মরা নদীতে পাঁচ শিশু ডুবে মারা গেছে। আনুমানিক বেলা ১টার দিকে তারা গোসল করতে নদীতে নামে। পরে একে একে পাঁচজন পানিতে ডুবে যায়। তিনি বলেন, ডুবে যাওয়ার সময় স্থানীয় এক নারী শিশুদের হাবুডুবু খেতে দেখে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। নিহত শিশুদের বয়স ৮ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তারা একই পাড়ায় বসবাস করত এবং পরস্পরের আত্মীয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, মৃতদের দাফনের জন্য প্রাথমিকভাবে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
