গ্রামীণ শিল্পের জন্য হাজার কোটি টাকার ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ বরাদ্দ

বাসস

পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নকে উৎসাহিত করা এবং সারা দেশে সবুজ রূপান্তর ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের আবর্তনশীল গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) থেকে গ্রামীণ ও স্থানীয় শিল্প খাতের জন্য এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত পাঁচ হাজার কোটি টাকার ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ)’ থেকে গ্রামীণ ও স্থানীয় শিল্পের জন্য আলাদাভাবে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নতুন নীতিমালার আওতায় পরিবেশবান্ধব যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ক্রয় এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের টেকসই রূপান্তরে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার কার্যক্রম এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে এই অর্থায়নের সুযোগ থাকবে।

সার্কুলার অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাত্র এক শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ শতাংশ।

প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী ঋণের মেয়াদ হবে দুই থেকে পাঁচ বছর। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড সুবিধাও থাকবে।

একজন উদ্যোক্তা এই তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। আমদানি বা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মোট ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করা যাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে ঋণ সুবিধা পেতে কিছু শর্তও মানতে হবে। প্রকল্পে ব্যবহৃত মোট বিদ্যুতের অন্তত ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবে না বলেও জানানো হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত সকল ব্যাংক এই তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণ করতে পারবে। আর বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের নিচে থাকতে হবে।

কোনো ব্যাংক এ কর্মসূচিতে যোগ দিতে চাইলে তাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টে একটি ‘পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করতে হবে। তবে যারা ইতোমধ্যেই বিদ্যমান জিটিএফ চুক্তির আওতায় রয়েছে, তাদের নতুন চুক্তি করতে হবে না।

জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে ১৫ দিনের মধ্যে সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগে ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করেছে, মিথ্যা তথ্য প্রদান বা রিপোর্টিংয়ের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights