গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য কতদূর যেতে পারেন ট্রাম্প?
অনলাইন ডেস্ক
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থানে টালমাটাল আন্তর্জাতিক রাজনীতি। ডেনমার্কের মালিকানাধীন এই বিশাল ভূখণ্ডটি নিয়ে ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং একের পর এক হুমকির মুখে ন্যাটোর মতো শক্তিশালী সামরিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন বড় প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই শঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন করছেন, আদৌ ন্যাটো জোট টিকবে কি?
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্প স্পষ্ট করে কিছু না বললেও রহস্য বজায় রেখে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে তিনি কতদূর যাবেন তা শীঘ্রই বিশ্ববাসী জানতে পারবে।
ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিশ্ব নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড দখল বা নিয়ন্ত্রণ করা আমেরিকার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
এদিকে ডেনমার্ক সরকার এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে। তাদের মতে, মিত্র দেশের ভূখণ্ড দখলের এই চেষ্টা কেবল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয় বরং এটি পুরো ন্যাটো জোটকে ভেঙে দেওয়ার উপক্রম করছে।
ডেনমার্কের এই উদ্বেগের মধ্যেই ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির মতো দেশগুলো যখন গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সেখানে সেনা পাঠিয়েছে, তখন ট্রাম্পের এমন পাল্টা হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ট্রাম্প অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ইউরোপীয় দেশগুলোকেই আমেরিকার সাথে করা পূর্বের বিনিয়োগ চুক্তির স্বার্থে নমনীয় হতে হবে।
অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় নেতৃত্ব শুরু থেকেই বলে আসছে, তাদের এই ভূখণ্ড কোনোভাবেই বিক্রির জন্য নয়। তবে ট্রাম্পের বিশ্বাস, তিনি যখন গ্রিনল্যান্ডের মানুষের সাথে কথা বলবেন, তখন তারা আমেরিকার সাথে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবে বেশ আনন্দিতই হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তর মেরুর বরফ গলে যাওয়ায় নতুন নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হচ্ছে, আর ট্রাম্পের আশঙ্কা রাশিয়া বা চীন এই সুযোগে গ্রিনল্যান্ড দখল করে নিতে পারে।
যদিও ডেনমার্ক নিশ্চিত করেছে, গ্রিনল্যান্ডে চীনের বড় কোনো বিনিয়োগ বা সামরিক তৎপরতা নেই। সবমিলিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখল এবং ইউরোপের ওপর সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি বিশ্ব রাজনীতিতে এক চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
