গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলে শক্তিশালী ও কার্যকর হবে ন্যাটো: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে অন্য কোনো বিকল্প গ্রহণযোগ্য নয়। গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলে ন্যাটো অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর হবে। হোয়াইট হাউসে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে নতুন করে এই দাবি করেন ট্রাম্প।

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নিতে আগ্রহী ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে। আমরা যে ‘গোল্ডেন ডোম’ তৈরি করছি, তার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। এটি পেতে ন্যাটোর উচিত আমাদের পথ দেখানো। তিনি আরও লেখেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলে ন্যাটো অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর হবে। এর চেয়ে কম কিছু গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার দখলে নেওয়ার হুমকির মুখেই ডেনমার্কের সঙ্গে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডরিক নিলসেন। তিনি বলেছেন, ‌‘যদি এখনই আমাদের যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে বেছে নিতে বলা হয়, আমরা ডেনমার্ককেই বেছে নেবো।’ মঙ্গলবার ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। জেন্স-ফ্রেডরিক বলেন, ‘আমরা ডেনমার্ক, ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বেছে নিয়েছি। শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করাই আমাদের লক্ষ্য।’ ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘নিকটতম মিত্রের (যুক্তরাষ্ট্র) কাছ থেকে আসা এমন চাপ মোকাবিলা করা মোটেও সহজ নয়।’ এর আগে গত সোমবারও গ্রিনল্যান্ড সরকার ট্রাম্পের হুমকি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছিল।

ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা উত্থাপন করেন। এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর থেকে এবং গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ বিষয়ে তার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবেই হোক দ্বীপটি দখল করবে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। ন্যাটোর টিকে থাকা নিয়েও সন্দেহ তৈরি করেছে। গ্রিনল্যান্ডের জনগণও নিরাপত্তা, পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তবে ট্রাম্পের বারবার দ্বীপটি দখলের হুমকির মুখে স্বায়ত্ত্বশাসিত গ্রিনল্যান্ড সরকারের এই অবস্থানকে ওয়াশিংটনের প্রতি একটি শক্তিশালী প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights