ঘরে বসেই যেভাবে ফেসিয়াল করবেন

সাদিয়া সারা

ত্বক ভালো ও পরিষ্কার রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ফেসিয়াল। এটি মুখের ত্বককে এক্সফোলিয়েট এবং হাইড্রেট করতে সাহায্য করে, পাশাপাশি বিভিন্ন দাগ দূর করে। নিয়মিত ফেসিয়াল করলে ত্বক পরিষ্কার হয়। সেই সঙ্গে ত্বক বেশ নরম ও মসৃণ হয়।

অনেকেই আছেন যাদের ফেসিয়াল করতে পার্লারের উপরই নির্ভর করতে হয়। তবে পার্লারে যাওয়া সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না, তাছাড়া বেশ খরচ সাপেক্ষও। সেক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি মেনে বাড়িতেই কিন্তু ফেসিয়াল করতে পারেন। বাড়িতে ফেসিয়াল করার ক্ষেত্রে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

প্রথমেই হেডব্যান্ড বসান কপালের ঠিক ওপরে, হেয়ারলাইন বরাবর। ঘাড়ের পেছন দিয়ে গিঁট বেঁধে নিন চুলকে বাঁচানোর জন্য।

ত্বক পরিষ্কার করে নিন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী মুখ ত্বকে ক্লিনজার লাগিয়ে নিন। তুলোর প্যাড ভিজিয়ে, চিপে নিন। ত্বকে ঘষতে থাকুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

ত্বক ভেজা থাকতে থাকতেই স্ক্রাব লাগিয়ে নিতে হবে। স্ক্রাবিংয়ে ডিপ পোর দূর হবে, যা তৈলাক্ত ত্বক এবং ব্ল্যাকহেডসের জন্য ভালো (যদি স্পট, পিম্পল, অ্যাকনে, র‌্যাশ থাকে, তাহলে স্ক্রাব এড়িয়ে চলুন)।

ত্বক যদি স্বাভাবিক থেকে শুষ্কর দিকে হয়, তাহলে এরপর নারিশিংয়ের পালা। ত্বকে নারিশিং ক্রিম লাগিয়ে নিন। তারপর ভিজে হাতে ম্যাসাজ করুন।

চোখের চারপাশে ম্যাসাজ করার সময় শুধু অনামিকা ব্যবহার করুন। খুব আলতো আঙুলে ঘষবেন। খেয়াল রাখবেন যেন ম্যাসাজের সময় ত্বকে টান না পড়ে।

ঘাড়ে ম্যাসাজ করুন চিবুক থেকে, নিচের দিকে। তিন-চার মিনিট এভাবে ম্যাসাজ করে, ভিজে তুলো বা ফেস টাওয়েল দিয়ে মুখ-গলা-ঘাড় মুছে পরিষ্কার করে নিন।

তৈলাক্ত ত্বক হলে মুখে ক্রিম ব্যবহার করবেন না, খালি ঘাড়ে দিন। এবার ফেস মাস্ক লাগিয়ে (বাড়িতে মাস্ক বানানোর পদ্ধতি আগেই বলা হয়েছে) ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে, জলে ধুয়ে নিন।

বরফ-ঠান্ডা গোলাপজলে তুলো ডুবিয়ে, তা দিয়ে মুখ মুছে নিন। শেষে মুখে চেপে চেপে, প্যাট করে নিন। এর ফলে ত্বকের টোনিং হয় এবং রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। ত্বকে স্বাস্থ্যের দীপ্তি ফুটে ওঠে।

এ ছাড়াও সম্ভব হলে প্রতিদিনই ঠান্ডা গোলাপজল দিয়ে ত্বকের টোনিং করুন। ফ্রিজে যখন গোলাপজল রাখবেন, তাতে তুলোর প্যাড ডুবিয়েই রেখে দিন। তা দিয়ে ত্বক প্রথমে ওয়াইপ করে, পরে স্ট্রোক করে নিন। আলতো চাপ দেবেন। কপালের মাঝখান থেকে শুরু করে বাইরের দিকে যান, রগ পর্যন্ত। চিবুকে ঘষুন সার্কুলার মোশনে।

শেষে মনে করিয়ে দিচ্ছি, ঠিক করে খান, ঘুমান আর শরীরচর্চা করুন। প্রচুর পানি পান করুন। কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে রোজ সকালে খান। সুস্থ থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights