ঘোড়াঘাটে করতোয়ার ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণ প্রকল্প
দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার করতোয়া নদীর ভাঙনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরসহ শতাধিক বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে নদীতীরে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসন।
ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর গ্রামের নাপিতপাড়া এলাকায় সম্প্রতি করতোয়া নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরসহ শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। খবর পেয়ে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। শ্রমিকেরা দিনভর নদীতীরে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জিও ব্যাগ ফেলার ফলে আপাতত ভাঙনের গতি কিছুটা কমেছে। তবে তাঁরা বলছেন, এটি সাময়িক সমাধান। ভবিষ্যতে একই সংকট এড়াতে করতোয়া নদীর তীরে স্থায়ী সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা গোলাপ মিয়া বলেন, জিও ব্যাগ ফেলায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে স্থায়ী ব্যবস্থা না হলে আবারও ভাঙনের আশঙ্কা থেকে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা জমিলা বেগম বলেন, কয়েক দিন ধরে নদীভাঙনের আতঙ্কে ছিলেন তাঁরা। এখন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আবারও একই সমস্যার মুখে পড়তে হবে।
বুলাকীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান লাভলু বলেন, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের ফলে আপাতত ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এ এলাকায় দ্রুত স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, বর্তমানে কুলানন্দনপুর এলাকায় যে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে, তা সম্পূর্ণ জরুরি ব্যবস্থা। বর্ষা মৌসুমে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০৮টি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ফেলা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুম শেষে করতোয়া নদীর এই অংশে সিসি ব্লক বা রিভেটমেন্টের মাধ্যমে স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
