ঘোড়াঘাটে পুলিশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা, যুবক গ্রেফতার
দিনাজপুর প্রতিনিধি
চলমান পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগে প্রতারণার অভিযোগে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে শামীম নামে প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রতারণার শিকার যুবকের পিতা শুক্রবার সকালে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ প্রতারককে ঘোড়াঘাট পৌরসভার নয়াপাড়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত প্রতারক শামিম মিয়া (৩৮) গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার সিধন গ্রামের আব্দুল গফুর মিয়ার ছেলে। তিনি ঘোড়াঘাট নয়াপাড়ার আসাদের মেয়েকে বিবাহ করে শ্বশুর বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
থানায় এজাহার দায়ের করলে ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রতারক শামীমকে গ্রেফতার করে শুক্রবার বিকালে দিনাজপুর জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
শুক্রবার বিকালে ঘোড়াঘাট থানায় এক প্রেস কনফারেন্সে হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার ঘোড়াঘাট পৌরসভার এস.কে বাজার এলাকার বাসিন্দা বজলার রহমানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি ঘোড়াঘাট মহিলা ডিগ্রি কলেজের একজন কর্মচারী। অপরদিকে আসামি শামীম একই এলাকায় চলাফেরার জেরে বাদীর সাথে তার পরিচয় হয়। এ সুবাদে আসামি জানায়, তার সাথে বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি টাকার বিনিময়ে বাদীর ছেলেকে চাকরি নিয়ে দিতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আসামির কথামতে বাদীর ছেলে ওমর ফারুক ফয়সালকে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরির জন্য গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আসামি শামীম মিয়াকে নগদ ১ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করেন। সে সময় বাদীর হাতে একটি সিল-স্বাক্ষর সম্বলিত সুপারিশ পত্র প্রদান করেন। পরে বাদীর ছেলে দিনাজপুর পুলিশ লাইনে উপস্থিত হয়ে চাকরি না পেয়ে ফেরত আসেন। বাদী আসামিকে চাকরির বিষয়ে বললে আসামি শামীম জানান, কোনো সমস্যা নেই যেভাবেই হোক চাকরি হবে। আসামির এমন কথাবার্তা ও কার্যকলাপ দেখে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, আসামি একজন প্রতারক। তিনি বিভিন্ন সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে বিভিন্ন অপকর্মসহ চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণাপূর্বক টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
প্রেস কনফারেন্সে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আসাদুজ্জামান আসাদ, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এনামুল হক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
