চট্টগ্রামের খালে ফিরবে প্রাণ
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ভেল্লাপাড়া হয়ে শান্তিরহাট-মনসারটেক পর্যন্ত খালটির নাম আলম খাল। খালটির কোথাও অস্তিত্বহীন, কোথাও বেদখল, কোথাও বর্জ্যে ঠাসা, কোথাও ভরাটের কবলে পড়েছে। নিকট অতীতেও এই খাল থেকে পানি দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষাবাদ করা হতো। ছিল জোয়ারভাটা। কিন্তু এখন এই খালের পানি কুচকুচে কালো। প্রায়ই ব্যবহার অযোগ্য। কেবল এই খালটি নয়, চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার প্রায় প্রতিটি খালেরই এমন বেহাল অবস্থা। তবে এবার এমন সব খাল খনন, সংস্কার ও উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খাল খননে হাতে নেওয়া হয়েছে বড় পরিকল্পনা। সংগ্রহ করা হচ্ছে খালগুলোর তথ্য। ফলে প্রাণ ফিরে পাবে চট্টগ্রামের তৃণমূলের খালগুলো। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
জানা যায়, চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় কতটি খাল আছে, কোনটির কী অবস্থা, কী পরিমাণ বেদখল আছে, খালের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কত- এসব তথ্য সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামে দুটি সার্কেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পাঁচটি উপজেলার খালের বিস্তারিত প্রতিবেদন দায়িত্বশীল প্রকৌশলী নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে জমা দিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ শওকত ইবনে শহীদ বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রধান কার্যালয় থেকে চট্টগ্রামের তৃণমূলের খালগুলো অবস্থা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা মতে, আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। কয়েকটি উপজেলার তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। আশা করি, চলতি সপ্তাহে সব তথ্য চলে আসবে। তথ্য পাওয়ার পর নির্দেশনা মতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। সবগুলো খালের তথ্য পাওয়ার পর একটা কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে। এর মাধ্যমে খালগুলো প্রাণ ফিরে পাবে।
চট্টগ্রাম খাল-নদী রক্ষা কমিটি সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে ১৫ উপজেলায় খালের সঠিক কোনো সংখ্যা নেই। তবে বিদ্যমান খালগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- হাটহাজারীতে আছে বালুখালি খাল, চ্যাংখালী এবং মিঠাছড়া, যা মূলত হালদা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। মিরসরাই গোভনিয়া খাল, গৌরিনাথপুর খাল। সীতাকুণ্ডে মদন, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, কুঁয়েশ, বাড়বকুণ্ড এবং ছলিমপুর খাল। রাঙ্গুনিয়ার আছে শিলক, কাটাখালী, কুলকুরমাই এবং চেঙখালী খাল। রাউজানে আছে রাউজান, ডাবুয়া, সর্তা ও খাসখালী খাল। বেয়ালখালীতে বোয়ালখালী, নূর মাঝির, ছন্দরিয়া, কাটাখালী, বোয়ালখালী ছড়া, চোরাখালী, বেইচ্চাখালী, বুড়ির মার, মর্দনা খাল। পটিয়ায় চাঁনখালী, শ্রীমাই, মুরারি, চামুদরিয়া, শিকলবাহা, মিলিটারি পুল, আলম খাল। আনোয়ারায় ইছামতি, সাপমারা, কান্দুরী, বড়পোল, ধানপুড়া ও শ্রীমতী খাল। চন্দনাইশে বরুমতি, বরগুনি, চাঁনখালী খাল। সাতকানিয়ায় ডলু, হাঙ্গর, নয়া, মাহালিয়া, ইছামতি, বারমোহা, কুড়ালিয়া, লোহাগাড়ায় আছে ডলু খাল, টংকাবতী খাল এবং বোয়ালিয়া খাল। জানা যায়, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় কর্মদিবসেই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ-সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে সরকার দ্রুতই দেশে ব্যাপকভাবে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে।
