চট্টগ্রামের ‘স্মার্ট স্কুল বাস’ স্মার্ট ডিস্ট্রিক্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জে পুরস্কৃত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রামের পরিচালিত দেশের জেলাসমূহের উদ্ভাবনী কার্যক্রম ভিত্তিক প্রতিযোগিতায় ‘স্মার্ট ডিস্ট্রিক্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ এর অধীন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ‘স্মার্ট স্কুল বাস’ শীর্ষক উদ্ভাবনটি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জমা হওয়া ৮৯টি উদ্ভাবনী প্রস্তাবনার মধ্যে চট্টগ্রামসহ পাঁচটি জেলা বিজয়ী হয়। পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককে আগামী ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পুরস্কৃত করার কথা।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ‘সমৃদ্ধ নগর, উন্নত গ্রাম প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্মার্ট চট্টগ্রাম’ স্লোগানকে সামনে নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন স্মার্ট স্কুল বাস শীর্ষক উদ্যোগটি গ্রহণ করে। উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১০টি সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১০টি দ্বিতল বাস নগরের বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের ডেটাবেইজ প্রস্তুতের পাশাপাশি বাসগুলোতে জিপিএস ট্র্যাকার, অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা, শিক্ষার্থীদের স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে ক্যাশলেস পেমেন্ট পদ্ধতি সংবলিত বিভিন্ন ডিভাইস সংযোজন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় থাকেন। এ সমস্যা নিরসনে ‘স্মার্ট স্কুল বাস’ নামে একটি প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেছি। ইতিমধ্যে ১০টি দ্বিতল বাস নগরের বিভিন্ন রুটে চলাচল শুরু করেছে। এটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে নগরের স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে অসহনীয় যানজট, অভিভাবকদের ভোগান্তি, যাতায়াতে অধিক খরচ, জ্বালানি অপচয়, সড়ক দুর্ঘটনা, অনিরাপদ স্কুল যাত্রা, অভিভাবকদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যার সমাধান হবে। চাহিদা অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে বাসের সংখ্যাও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা আছে।
তিনি বলেন, বাস সমূহে স্মার্ট টেকনোলজি স্থাপন করা হয়েছে। যেমন, জিপিএস ট্র্যাকার, আইপি ক্যামেরা, এআই ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাসে ওঠা-নামার সময় অভিভাবকের ফোনে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস প্রদান, বাসে শিক্ষার্থীদের অবস্থান মনিটরিং, স্কুল টাইমিং সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বল্প খরচে স্কুল-কলেজ যাত্রা নিশ্চিত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights