চট্টগ্রামের হাটে গরুর দাম চড়া, জমেনি কেনাবেচা

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবার ৯টি পশুর হাট বসেছে। এসব হাটে মাঝারি থেকে বড় আকারের গরু বেশি। বিক্রেতারাও চড়া দাম হাঁকছেন। তবে ঈদের মাত্র তিন বাকি থাকলেও এখনো জমেনি পশুর হাট।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, এবার চট্টগ্রামে চাহিদার চেয়ে কম পশুর উৎপাদন কিছুটা কম। তবে ঘাটতি হবে না। কারণ উপজেলাপর্যায়ের বাজারগুলোতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গরু কেনাবেচা হলেও মহানগরীর বাজারগুলোতে বাইরের জেলা থেকেও গরু আসে।

জানা গেছে, প্রতিবছর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, মাগুরা, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে চট্টগ্রামের হাটে আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম নেই। ভারতীয় গরুও আসছে চট্টগ্রামের বাজারে। চট্টগ্রামের অন্যতম সাগরিকা বাজার ও বিবিরহাট ছাড়াও নগরীর বাইরে কর্ণফুলী মইজ্যার টেক বাজারেও উত্তরাঞ্চলের গরু আসছে।

চট্টগ্রামের সাগরিকা, বিবিরহাটে স্থায়ী পশুর হাট বসে। এর বাইরে পোস্তারপাড় ছাগলের হাটে স্থায়ী পশুর হাট বসে। এর বাইরে এবার ৯টি অস্থায়ী বাজারে পশুর হাট বসিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। বাজারগুলো হচ্ছে- বাকলিয়ার নূরনগর হাউজিংয়ের মাঠ, পতেঙ্গার খেজুরতলা বাঁধ সংলগ্ন মাঠ, পতেঙ্গার হোসেন আহমেদপাড়া সংলগ্ন টিএসপি মাঠ, পতেঙ্গায় মুসলিমাবাদ রোড, পাঁচলাইশের ওয়াজেদিয়া মোড়, আউটার রিং রোডে সিডিএ মাটির মাঠ, হালিশহর বড় পোলের গোডাউন এলাকা, সল্টগোলা রেলওয়ে ক্রসিং সংলগ্ন মাঠ এবং দক্ষিণ পতেঙ্গার বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টি কে গ্রুপের খালি মাঠ।

শনিবার (২৪ জুন) বিকেলে সাগরিকা পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জেলা থেকে গরু আসছে। মূল বাজারের বাইরেও বিসিক শিল্পনগরীর বিভিন্ন প্লটে ত্রিপলের সামিয়ানা টাঙিয়ে খাইন বানিয়ে পশু রাখা হয়েছে। তবে খাইনে গরু রাখার জন্য টাকা দিলেও দূর-দূরান্তের জেলাগুলো থেকে আসা বিক্রেতারা স্বস্তিতে রয়েছেন। ঝড়-বৃষ্টিতে গরু রাখা নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা নেই।

সাগরিকা বাজারের সবচেয়ে বড় গরুটি দেখা গেছে মামু-ভাগিনার মাঠে। বাবু নামের গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে সাড়ে ১২ লাখ টাকা। এরই মধ্যে এক ক্রেতা গরুটি ৭ লাখ টাকা দরদাম করেছে বলে জানিয়েছেন মাগুরা থেকে আসা গরুর মালিক আবু হাসান। তিনি বলেন, গরুটির ওজন ৪১ মণ। বাবু ছাড়াও তিনি ১৩টি গরু এনেছেন বলে জানিয়েছেন।

পাশে ভাগিনার মাঠে ঝিনাইদহের শৈলকূপা থেকে গরু এনেছেন রাকিবুল হাসান। তিনি দুই ট্রাকে ২৬টি গরু নিয়ে সাগরিকা বাজারে আসেন দুদিন আগে। তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় গরুটির দাম সুন্দরীবালা। গরুটির দাম চাওয়া আছে সাড়ে ছয় লাখ টাকা।

এবার চট্টগ্রামে পশুর কোনো ঘাটতি হবে না বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে চলতি বছর ৮ লাখ ৭৪ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ৪২ হাজার পশু। অবশিষ্ট পশু দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে আসছে।

ডা. আলমগীর বলেন, বাজারে আসা পশুর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। পশুর হাটে সেবা দেওয়ার জন্য চট্টগ্রামে ১২২টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে কাজ করছে ছয়টি মেডিকেল টিম।

এদিকে, নগরীর পশুর বাজারগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। হাটে জাল টাকার লেনদেন ঠেকাতে সরকারি ও বেসরকারি তফসিলি ব্যাংকগুলো বুথ বসিয়েছে।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) আ স ম মাহাতাব উদ্দিন বলেন, নগরীর পশুর হাটগুলোতে নিশ্চিন্তে পশু কেনাকাটার জন্য সিএমপির পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। পশুর হাটগুলোকে সার্বক্ষণিক পুলিশের টিম থাকছে। সিসিটিভির মাধ্যমে বাজার তদারকি করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights