চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আরও পাঁচ বাচ্চার জন্ম দিল মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কাছিম

অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কাছিমের আরও পাঁচটি বাচ্চার জন্ম হয়েছে। গত ৬ জুন ডিম ফুটে বাচ্চাগুলোর জন্ম হয় বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

চিড়িয়াখানার পরিচর্যাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ২০২২ সালে এ প্রজাতির জন্য উন্নত ও বৃহত্তর আবাসস্থল, পরিবেশ সমৃদ্ধকরণ এবং আধুনিক পরিচর্যা ব্যবস্থা চালুর পর কাছিমগুলোর প্রজননে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসতে শুরু করে।

এর আগে ২০২৩ ও ২০২৫ সালেও এ প্রজাতির বাচ্চা জন্ম হয়েছিল। সর্বশেষ পাঁচটি বাচ্চাসহ বর্তমানে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় মোট ১৬টি হলুদ পাহাড়ি কাছিম রয়েছে। চার বছরের ব্যবধানে এ প্রজাতির সংখ্যা আট থেকে ১৬টিতে উন্নীত হয়েছে, যা প্রায় শতভাগ বৃদ্ধির সমতুল্য। বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিপন্ন কচ্ছপ ও কাছিম প্রজাতি সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রেক্ষাপটে মহাবিপন্ন এ প্রজাতির সফল সংরক্ষণমূলক প্রজননের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ এটি। ভবিষ্যতে প্রজাতিটির সংরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য পুনঃঅবমুক্তকরণ কার্যক্রমের জন্য এ সাফল্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা বিভিন্ন প্রজাতির বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও প্রজনন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে পুনঃঅবমুক্তির লক্ষ্যে পরিচালিত এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবার প্রজনন সাফল্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে হলুদ পাহাড়ি কাছিম।

হলুদ পাহাড়ি কাছিম বিশ্বব্যাপী অতি বিপন্ন একটি প্রজাতি হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকোচন, অবৈধ শিকার এবং নানা পরিবেশগত চাপে এ প্রজাতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে সংরক্ষণভিত্তিক প্রজননের মাধ্যমে এদের সংখ্যা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, ‘হলুদ পাহাড়ি কাছিমের প্রজননে এটি চিড়িয়াখানার ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ। এর আগে ২০২৩ ও ২০২৫ সালেও কয়েক দফায় ডিম থেকে বাচ্চা ফুটেছে। এবার সাতটি ডিম পাড়া হলেও পাঁচটি থেকে সফলভাবে বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। বাকি দুটি ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক কাছিমগুলো আগে থেকেই চিড়িয়াখানায় ছিল। শুরুতে আটটি কাছিম ছিল সংগ্রহে। পরে তাদের জন্য আবাসস্থল সম্প্রসারণ ও পরিবেশ উন্নয়নের পর থেকেই নিয়মিত প্রজনন শুরু হয়।’

চিড়িয়াখানার কিউরেটর শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘গত চার বছরে প্রজননের মাধ্যমে হলুদ পাহাড়ি কাছিমের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে চিড়িয়াখানার ২৯ জন কর্মী সম্মিলিতভাবে প্রাণীগুলোর পরিচর্যা করছেন। তাদের জন্য আলাদা কোনো বিশেষায়িত দল নেই।’

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হলুদ পাহাড়ি কাছিমগুলোকে নিয়মিত তাজা ফলমূল ও সবুজ শাকসবজি খাওয়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশের অনুকরণে আবাসস্থল রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের মতে, যেসব পশুপাখি ৮০-৯০ শতাংশ বিলুপ্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ‘অতি বিপন্ন’ এর তালিকায় রাখা হয়েছে এই হলুদ কাছিমকে।

এর আগে, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় অতি বিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ দীর্ঘ আট বছর ডিম না দেওয়ার পর নতুন করে প্রজনন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। ২২ বর্গফুটের একটি ছোট খাঁচায় থাকা আটটি কচ্ছপ—চারটি পুরুষ ও চারটি স্ত্রী—২০১৩ সালের পর দীর্ঘ সময় কোনো ডিম দেয়নি। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মতে, উপযুক্ত লুকানোর জায়গা ও নিরাপদ ডিম পাড়ার পরিবেশ না থাকায় এতদিন প্রজনন ব্যাহত ছিল।

২০২২ সালের পর তাদের জন্য বড় ও পরিবেশবান্ধব আবাসস্থল তৈরি করা হয়, যেখানে নিরিবিলি ডিম পাড়ার সুযোগ রাখা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন পরিবেশে কচ্ছপগুলোর মানিয়ে নেওয়ার পর প্রজনন ফের শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আবাসস্থল সংকোচন, পরিবেশগত চাপ ও অবৈধ শিকারসহ নানা কারণে এ প্রজাতির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে, ফলে এটি বর্তমানে অতি বিপন্ন হিসেবে বিবেচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights