চরম কষ্টে ছিন্নমূল মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
তীব্র শীতে কাঁপছে দেশ। খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ চরম কষ্টে দিনযাপন করছে। দেশের অনেক জায়গায় সূর্য দেখা যায়নি। কুয়াশা ঝরেছে বৃষ্টির মতো। ৪৪ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আরও কয়েক দিন শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকালের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী রবিবার পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ চলবে। কোথাও কোথাও আকাশ মেঘলা থাকবে। সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল সকাল ৬টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁয় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জয়পুরহাটে শীতে জবুথবু জনজীবন : কয়েক দিন থেকে জয়পুরহাটে সূর্যের দেখা মিলছে না। বুধবার ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় আকাশ ঢেকে যায়। রাতে ও সকালে বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরছে। প্রচ শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ চরম কষ্টে দিনযাপন করছে। শীতের কারণে মাঠে কাজ করতে পারছে না তারা। অতিরিক্ত শীতে জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর চাপ বাড়ছে। গত কয়েক দিনে জেলা সদর, কালাই এবং ক্ষেতলাল উপজেলার হতদরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয় : গতকাল সকালে নওগাঁর বদলগাছীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে; যা এটিই চলতি শীত মৌসুমে নওগাঁয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক হামিদুল হক বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকালে নওগাঁয় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও কয়েক দিন এ রকম থাকতে পারে। বর্তমানে নওগাঁর ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।’

দিনাজপুরে কনকনে ঠান্ডা : দিনাজপুরে কনকনে ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সকাল ও রাতে বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। ভোরের দিকে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশার চাদরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কুয়াশার সঙ্গে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে দিনাজপুর অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলমান রয়েছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সিরাজগঞ্জে বিপর্যস্ত জনজীবন : সিরাজগঞ্জে শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। গতকাল সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা জেলার এ বছরের সর্বনিম্ন। সকালের ঘন কুয়াশায় যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে ধীরগতিতে। কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাস বয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তীব্র শীতে কাঁপছে যমুনাপারের জেলা সিরাজগঞ্জ। শীতের কারণে রাস্তায় কম মানুষ বের হচ্ছে। কনকনে শীতে নিম্ন আয়ের মানুষ কাজ করতে পারছে না। কৃষক পরিচর্যার জন্য খেতে যেতে পারছে না। ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগ অ্যাজমা, শ্বাসকস্ট, হাঁপানি, সর্দি, ঠান্ডা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজ না থাকায় দরিদ্র মানুষ আর্থিক সংকটে পড়েছে। এ ছাড়া শীতবস্ত্রেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে রংপুর : রংপুর বিভাগজুড়ে মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এতে জেলাগুলোতে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। তবে গতকাল সকালে রংপুরে রোদ ওঠায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। যদিও রোদের তীব্রতা তেমন ছিল না। রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৬টায় বিভাগে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং নীলফামারীর ডিমলায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ তিন জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজমান থাকায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।

তীব্র শীতে কাঁপছে পাহাড় : সকাল গড়িয়ে বিকাল তবু দেখা নেই সূর্যের। এভাবে সময় বাড়ে, সন্ধ্যা নামে। কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় আশপাশ। রাতে শুরু হয় কনকনে শীত। তীব্র হয় ঠান্ডার অনুভূতি। এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে সপ্তাহ ধরে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে পাহাড় যেন তীব্র শীতে কাঁপছে। সবচেয়ে ভোগান্তি বেড়েছে নিম্ন আর মধ্য আয়ের মানুষের। ঠান্ডার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে শ্রমিকরা। রাঙামাটি শহরের তুলনায় উপজেলায় শীতের প্রকোপ বেশি। ঘন কুয়াশার কারণে মাঠে নামতে পারছে না কৃষক। বেশির ভাগ সবজিবাগান খালি থাকে বেলা পর্যন্ত। তাই মাঠে নষ্ট হচ্ছে পাহাড়ে উৎপাদিত শীতের সবজি। একই সঙ্গে শীতবস্ত্রের মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে পাহাড়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে। শীতের কারণে কষ্ট বাড়লেও শীতবস্ত্র সহায়তায় হাত বাড়ায়নি কেউ। গতকাল রাঙামাটিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গায় প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছে না কেউ : টানা দুই দিন মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে চুয়াডাঙ্গায়। গতকাল সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এটিই এ মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ভোর থেকে ঘন কুয়াশা আর হিমশীতল বাতাসে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বের হয়নি। যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করেছে। শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে ছিন্নমূল মানুষ। তারা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীতনিবারণের চেষ্টা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights