চাঁদপুরে জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক সংকট

নেয়ামত হোসেন, চাঁদপুর
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নে ৫৭নং পূর্ব ভাওয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ জন শিক্ষক দ্বারা জরাজীর্ণ টিনসেড ভবনে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে দেড় বছর পূর্বে প্রধান শিক্ষকের অবসরজনিত কারণে বর্তমানে ৪ জন শিক্ষক ১০৮ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। সেখানে একটি নতুন একতলা ভবন ও একটি পুরাতন বারান্দাবিহীন জরাজীর্ন টিনসেড ভবন রয়েছে। পুরাতন ভবনের বারান্দায় চাল নেই, ঠাই দাঁড়িয়ে থাকা পিলারগুলোর ঢালাই ভেঙে রড বেরিয়ে থাকায় যেকোন সময় শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। এছাড়া কাঠের দরজা জানালাগুলোও ঘুনে খাওয়া। আবার খেলার মাঠের বিভিন্ন স্থানে জমে রয়েছে বৃষ্টির পানি।

দুই শিফটের স্কুলটির প্রধান শিক্ষক শান্তি রানী ধর ২০২৩ সালের মার্চ মাসে অবসর গ্রহণ ও সহকারি শিক্ষক আবদুল আজিজ পিটিআই’এ ট্রেনিংয়ে যাওয়ার কারণে শিক্ষক সংকট দেখা দেয়। পরবর্তীতে ৮আগষ্ট সহকারি শিক্ষক নুরুন নাহার মৃত্যুবরণ করেন। তখন উপজেলা শিক্ষা অফিসার পার্শ্ববর্তী স্কুল থেকে দু’জন সহকারি শিক্ষক শাহাবুদ্দিন আহমেদ (পশ্চিম ভাওয়াল সপ্রাবি) ও আবদুর রহমান (শিংয়ের গা সপ্রাবি) কে পূর্ব ভাওয়াল সপ্রাবি.এ ডেপুটেশনে প্রেরন করেন। এতে করে শিক্ষক সংকট কাটিয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান ছিল। কিছুটা সংকটের মাঝেই আবার তানিয়া আক্তার নামে সহকারি শিক্ষক শারীরিক অক্ষমতার কারণে ছুটি নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে ২০১৭ সালে চাকরি নেয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফাতেমা আক্তার বিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়ে পাঠদানসহ সার্বিক কার্যক্রম একপ্রকার চালিয়ে আসছেন।
প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) ফাতেমা আক্তার বলেন, যেহেতু শিক্ষক সংকট রয়েছে। তারপরেও আমরা ৩ জন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ঠিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছি। শারিরীক অসুস্থতা, মৃত্যু ও পিটিআই’এ টেনিং তো আর বলে কয়ে আসে না। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার আফতাবুল ইসলাম ও সহকারি শিক্ষা অফিসার মনিরুল হক বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ডেপুটেশনে শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম সচল রেখেছি। এই প্রতিষ্ঠানে একসাথে এতগুলো সংকট একত্রে আসবে তা ভাবতে পারিনি। তারপরেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চাইলে প্রয়োজনে আরও শিক্ষক ডেপুটেশনে দেয়া হবে।

আর জরাজীর্ন টিনসেড ভবনটির বিষয়ে পরবর্তীতে নতুন ভবনের চাহিদার প্রেক্ষিতে তালিকা প্রদান করে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে স্কুলের মাঠে মাটি ফেলা, জরাজীর্ণ ভবনটি অপসারণ ও নতুন ভবন বরাদ্দের ব্যবস্থার কথাও জানান।

বিডি প্রতিদিন/হিমেলচাঁদপুরে জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক সংকট

নেয়ামত হোসেন, চাঁদপুর
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নে ৫৭নং পূর্ব ভাওয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ জন শিক্ষক দ্বারা জরাজীর্ণ টিনসেড ভবনে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে দেড় বছর পূর্বে প্রধান শিক্ষকের অবসরজনিত কারণে বর্তমানে ৪ জন শিক্ষক ১০৮ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। সেখানে একটি নতুন একতলা ভবন ও একটি পুরাতন বারান্দাবিহীন জরাজীর্ন টিনসেড ভবন রয়েছে। পুরাতন ভবনের বারান্দায় চাল নেই, ঠাই দাঁড়িয়ে থাকা পিলারগুলোর ঢালাই ভেঙে রড বেরিয়ে থাকায় যেকোন সময় শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। এছাড়া কাঠের দরজা জানালাগুলোও ঘুনে খাওয়া। আবার খেলার মাঠের বিভিন্ন স্থানে জমে রয়েছে বৃষ্টির পানি।

দুই শিফটের স্কুলটির প্রধান শিক্ষক শান্তি রানী ধর ২০২৩ সালের মার্চ মাসে অবসর গ্রহণ ও সহকারি শিক্ষক আবদুল আজিজ পিটিআই’এ ট্রেনিংয়ে যাওয়ার কারণে শিক্ষক সংকট দেখা দেয়। পরবর্তীতে ৮আগষ্ট সহকারি শিক্ষক নুরুন নাহার মৃত্যুবরণ করেন। তখন উপজেলা শিক্ষা অফিসার পার্শ্ববর্তী স্কুল থেকে দু’জন সহকারি শিক্ষক শাহাবুদ্দিন আহমেদ (পশ্চিম ভাওয়াল সপ্রাবি) ও আবদুর রহমান (শিংয়ের গা সপ্রাবি) কে পূর্ব ভাওয়াল সপ্রাবি.এ ডেপুটেশনে প্রেরন করেন। এতে করে শিক্ষক সংকট কাটিয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান ছিল। কিছুটা সংকটের মাঝেই আবার তানিয়া আক্তার নামে সহকারি শিক্ষক শারীরিক অক্ষমতার কারণে ছুটি নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে ২০১৭ সালে চাকরি নেয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফাতেমা আক্তার বিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়ে পাঠদানসহ সার্বিক কার্যক্রম একপ্রকার চালিয়ে আসছেন।

প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) ফাতেমা আক্তার বলেন, যেহেতু শিক্ষক সংকট রয়েছে। তারপরেও আমরা ৩ জন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ঠিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছি। শারিরীক অসুস্থতা, মৃত্যু ও পিটিআই’এ টেনিং তো আর বলে কয়ে আসে না। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার আফতাবুল ইসলাম ও সহকারি শিক্ষা অফিসার মনিরুল হক বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ডেপুটেশনে শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম সচল রেখেছি। এই প্রতিষ্ঠানে একসাথে এতগুলো সংকট একত্রে আসবে তা ভাবতে পারিনি। তারপরেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চাইলে প্রয়োজনে আরও শিক্ষক ডেপুটেশনে দেয়া হবে।

আর জরাজীর্ন টিনসেড ভবনটির বিষয়ে পরবর্তীতে নতুন ভবনের চাহিদার প্রেক্ষিতে তালিকা প্রদান করে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে স্কুলের মাঠে মাটি ফেলা, জরাজীর্ণ ভবনটি অপসারণ ও নতুন ভবন বরাদ্দের ব্যবস্থার কথাও জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights