চাঁদপুরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে দুই প্রার্থীকে শোকজ

চাঁদপুর প্রতিনিধি :

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের দুই সংসদ সদস্য প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর-৪ নির্বাচনী এলাকার নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল জজ কমিটির পক্ষ থেকে পৃথক দু-টি কারণ দর্শানোর নোটিশ গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী দুই প্রার্থী হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. হারুনুর রশীদ।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ জানুয়ারি ‘বিল্লাল হোসেন মিয়াজী’ নামক একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ছবি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক সম্বলিত “১২ তারিখ সারাদিন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন” লেখা পোস্টার শেয়ার করা হয়। এছাড়াও ‘বিল্লাল হোসেন মিয়াজী সমর্থক গোষ্ঠী’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে নিয়মিতভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘লায়ন মো. হারুনুর রশীদ’ নামক ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে গত ৬ জানুয়ারি ছবি ও ধানের শীষ প্রতীক সম্বলিত “হারুন ভাইয়ের সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন” লেখা পোস্টার প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি ওই প্রোফাইল থেকে নিয়মিতভাবে নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, যা কমিটির নজরে এসেছে।

উভয় প্রার্থীর ক্ষেত্রেই নোটিশে বলা হয়, নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখের তিন সপ্তাহ পূর্বে এ ধরনের প্রচারণা চালানো নির্বাচন আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনজনিত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এমন পরিস্থিতিতে কেন উক্ত দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অপরাধটি বিচারের জন্য আমলে নেওয়া হবে না অথবা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শেষে লিখিত সুপারিশসহ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না- সে বিষয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, আগামী ১৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায় ফরিদগঞ্জ সিভিল জজ আদালত, চাঁদপুর (জেলা জজ আদালত ভবন, চাঁদপুর)-এ কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্ত প্রার্থীদের বক্তব্য ব্যতিরেকেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে সিভিল জজ ও চাঁদপুর-৪ নির্বাচনী এলাকার নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান সবুজ হোসেন ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অতিসত্ত্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে জারির প্রতিবেদন তার কার্যালয়ে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights