চাঁদপুরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষন।

চাঁদপুর প্রতিনিধি

সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরে প্রতিদিন ডেঙ্গুর পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ডেঙ্গু রোগীরা চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট আসনের চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে নার্স ও চিকিৎসকরা।

মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব জানিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন জেলা সিভিল সার্জন। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে, চাঁদপুর জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সলোতে গত এক সপ্তাহে মোট ২৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। তন্মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২৭জন। বর্তমানে হাসপাতালে ১৩১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রোগী জয়লাল, আল-আমিন ও আয়শা বেগম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় চাঁদপুরে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ডেঙ্গু রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, আসন সংখ্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুনেরও বেশি। অনেক রোগী ফ্লোরে, বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। তবে বেশিরভাগ রোগী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা- উপজেলার হলেও, অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আবার অনেকে জ্বর, শরীর ব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই ডেঙ্গু রোগী ধরা পরছে।

ডা. পিজুস সাহা, সেবিকা আসমা আক্তার ও হালিমা বেগম বলেন, রোগীদের সুস্থ করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করা হলেও আসন সংখ্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্বাস্থ্য সহকারীদের পাশাপাশি চিকিৎসক ও সেবিকারা চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাধায়ক ডা. এ.কে.এম. মাহবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২৪টি বেড করা হয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে রোগী আসাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অতিরিক্ত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন রোগী মারা না গেলেও জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও কফের সাথে রক্ত বের হওয়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির জন্য পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক।

চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন বলেন, যেহেতু ডেঙ্গু একটা মশাবাহিত রোগ। সেহেতু মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে। তবে মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পরামর্শের কথাও জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights