চাপেপড়বেঢাকা, বাড়বেদুর্ভোগ

ঢাকার ১০০ফুটসড়কেরদুইপাশেবাণিজ্যিকপ্রতিষ্ঠানগড়েতোলারসুযোগরেখেনীতিমালাপ্রণয়নকরেছেগৃহায়নওগণপূর্তমন্ত্রণালয়।কিন্তুএমনজনগুরুত্বপূর্ণবিষয়েনীতিমালাচূড়ান্তকরারআগেকোনোসমীক্ষাইকরাহয়নি।এদিকেনগরবিশেষজ্ঞরাবলছেন, আবাসিকএলাকারনির্ধারিতপ্লটেঢালাওভাবেবাণিজ্যিকস্থাপনানির্মাণেরসুযোগরাখলেযাতায়াতওপরিবহনেরচাপআরওবাড়বে।স্থায়ীবাণিজ্যিকস্থাপনারপাশাপাশিসড়কেরদুইপাশেঅস্থায়ীভাবেকাঁচামাল, নিত্যপণ্য, শাকসবজিইত্যাদিকেনাবেচারকার্যক্রমওব্যাপকতাপেতেপারে।ফলেযানজটওজনদুর্ভোগসৃষ্টিহবে।
পর্যবেক্ষকরাবলছেন, ঢাকার মূল সমস্যা জনঘনত্বও ঢাকামুখী মানুষের স্রোত। তাই নগরীর সমস্যাসমাধানে ঢাকামুখী মানুষের স্রোত কমানোর ওপর জোর দিতেহবে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের এক বক্তব্যেও অভিন্নধারণার প্রকাশ ঘটেছে। গত জুন মাসেরপ্রথম সপ্তাহে এক অনুষ্ঠানে তিনিবলেছেন, ঢাকায় কত মানুষ বসবাসকরবে, তারও একটা সীমাঠিক করতে হবে। এনিয়ে নীতিমালা করার সময় এসেছে।
‘রাজউকেরঅবস্থান স্ববিরোধী’

নগরবিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীতিগত সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেকেইবেশি লাভের আশায় নির্দিষ্ট ফি দিয়ে আবাসিকপ্লটবাণিজ্যিকে রূপান্তর করার সুযোগ কাজেলাগাতে চাইবেন। এর ফলে কর্মসংস্থানেরসুযোগ সৃষ্টি হবে বটে, কিন্তুসেই সূত্রে গ্রাম ও মফস্বল থেকেরাজধানীমুখী মানুষের স্রোতও বাড়বে
বিশেষজ্ঞরাবলছেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) গত বছর সংশোধিতডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রকাশ করেছে। সেখানে ঢাকার জনঘনত্ব কমাতে ভবনের উচ্চতা কমিয়ে দিয়েছে। এলাকাভিত্তিক গণপরিসর বিবেচনায় ভবনের উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচসেই সংস্থার মাধ্যমেই আবার জনঘনত্ব বাড়াতেসহায়তা করবে এমন নতুননীতিমালা করা হয়েছে; এটাস্ববিরোধী অবস্থান। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ঢাকায়ধারণক্ষমতার চেয়ে চারগুণ বেশি মানুষের বসবাস।আর নাগরিক সুবিধা রয়েছে প্রয়োজনের মাত্র এক- তৃতীয়াংশ। রয়েছেধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ছয়গুণ বেশি গণপরিবহন। এঅবস্থায় বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ ঘটলে রা
২২শর্ত ও বিষয় নিয়েনতুন নীতিমালা গত ৩ মেরাজউকের আওতাধীন গুলশান, বনানী, বারিধারা ও উত্তরার প্রথমও দ্বিতীয় পর্বের আবাসিক প্লটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার নীতিমালা অনুমোদন করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।এই নীতিমালা অনুযায়ী, ১০০ ফুট প্রশস্তসড়কের দুইপাশের আবাসিক প্লটে শর্তসাপেক্ষে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলার অনুমোদনদেওয়া হবে।

রাজউকেরজন্য প্রণীত নতুন নীতিমালায় ২২টিশর্ত ও বিষয় উল্লেখকরা হয়েছে। এই নীতিমালা প্রণয়নকাজেনেতৃত্ব দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।সহযোগিতা দিয়েছে রাজউক। এরপরও কোনো সমীক্ষা ছাড়াইনীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।

নীতিমালাপর্যালোচনায় দেখা গেছে, আবাসিকএলাকার ১০০ ফুট সড়কেরদুইপাশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়েছে- গুলশানআবাসিক এলাকার গুলশান অ্যাভিনিউ, বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, রবীন্দ্র সরণি, সোনারগাঁ জনপদ, গাওসুল আজম অ্যাভিনিউ, গরীবেনেওয়াজ অ্যাভিনিউ, শাহ মখদুম অ্যাভিনিউ, শাহজালাল অ্যাভিনিউ, ঈশা খাঁ অ্যাভিনিউও আলাওল অ্যাভিনিউ এ কার্যক্রমের আওতায়পড়বে। রাজউকের আওতাধীন অন্যান্য যেসব এলাকায় ১০০ফুট সড়ক থাকবে, সেখানেওএই বিধান প্রযোজ্য হবে। বেসরকারি হাউজিংপ্রকল্পও এ সুযোগে বাণিজ্যিককার্যক্রমের সম্প্রসারণ ঘটাতে পারবে।

বিশেষজ্ঞদেরঅভিমত
এপ্রসঙ্গে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ডডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপকড. আদিল মুহাম্মদ খানবলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ আরও বেশি প্রয়োজনীয়হয়ে উঠেছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরেএ দাবি তুলে আসছি।এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকায় আরও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেরআমন্ত্রণ জানানো কিছুতেই মেনে নেওয়া যায়না। রাজউক সঠিক পথে চলছেনা। এ সিদ্ধান্ত কার্যকরহলে এসব এলাকার আবাসিকপরিবেশ নষ্ট হবে। যানজট, জনজট ও জনদুর্ভোগ বাড়বে।
বাংলাদেশপরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘এই নীতিমালা রাজউকেরসংশোধিত ড্যাপের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেননা সেখানে জনঘনত্ব কমাতে নানা বিধিনিষেধ আরোপকরা হয়েছে। আবার এদিকে ঢালাওবাণিজ্যিকের অনুমোদন দেওয়ার নীতিমালা অনুমোদন করেছে। এমন স্ববিরোধী সিদ্ধান্তকীভাবে নেওয়া হলো তা চিন্তাওকরতে পারি না। ‘

বাংলাদেশইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক নগর পরিকল্পনাবিদ শেখমুহাম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, ঢালাওভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়াউচিত হয়নি। এজন্য প্রয়োজন ওসব এলাকায় বিস্তারিতসমীক্ষা করা। এরপর সার্বিকঅবস্থা বিশ্লেষণ করে সেসব এলাকায়সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়া যেতে পারত। কিন্তুতা না করে ঢালাওভাবেনেওয়া এ সিদ্ধান্ত দুঃখজনক’। তিনি বলেন, ‘ঢালাওভাবে আবাসিক এলাকার নির্ধারিত সড়কগুলোয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দিলে ঢাকার ওপরচাপ বাড়বে। ওইসব এলাকার বাসযোগ্যতারমানও কমে যাবে।

রাজউকেরনগর পরিকল্পনাবিদ ও ড্যাপের পরিচালকমো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিস্তারিত সমীক্ষা করে এমন সিদ্ধান্তনিলে সেটা ভালো হতো; তবে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নির্দেশনায় বিস্তারিত সমীক্ষা করতে রাজউককে বলাহয়েছে। ইতোমধ্যে রাজউকের পরিকল্পনা শাখা সেই কাজশুরু করেছে। ‘
রাজউকচেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমানমিঞা বলেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতেই আবাসিক প্লটে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো নীতিমালা নাথাকায় ৬০ ফুট ও৮০ ফুট সড়কের পাশেওঅনেক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার আবেদন জমা পড়েছে। এনীতিমালার মাধ্যমে এতদিনের বিশৃঙ্খল অবস্থাকে কিছুটা শৃঙ্খলায় আনা হচ্ছে। তবেএর মাধ্যমে প্লটমালিকরা যাতে উৎসাহী নাহন, সেজন্য প্লটের শ্রেণি পরিবর্তনের ফি দ্বিগুণ করাহয়েছে।

গৃহায়নও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছিউদ্দিন বলেন, ‘আগে থেকেই এসবআবাসিক এলাকার কিছু সড়কে বাণিজ্যিকঅনুমোদন দেওয়া ছিল। কোনো নীতিমালানা থাকায় সেসব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেঅনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগরয়েছে। এজন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নকরা হলো; যাতে রাজউকশৃঙ্খলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। ‘ তিনিবলেন, ‘সার্বিক দিক বুঝে রাজউককেআবাসিক প্লটের শ্রেণি পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে।তারা প্রয়োজনে বিস্তারিত সমীক্ষা করে এসব কাজকরবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights